উন্নত প্রযুক্তি বিদেশে পাচার ঠেকাতে সম্প্রসারিত গুপ্তচরবৃত্তি আইন কার্যকর করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সংশোধিত ফৌজদারি আইনটি জাতীয় পরিষদে পাস হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। নতুন বিধানে যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা সমতুল্য সংগঠনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এতদিন দেশটির আইনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ মূলত উত্তর কোরিয়ার স্বার্থে কাজ করার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। ফলে অন্য দেশের জন্য তথ্য পাচারের ঘটনায় কৌঁসুলিদের তুলনামূলক দুর্বল বাণিজ্যিক গোপনীয়তা আইনের আশ্রয় নিতে হতো। কয়েক দশকের এই ফাঁক এবার বন্ধ হলো। নতুন অপরাধে সর্বনিম্ন সাজা তিন বছরের কারাদণ্ড।
আইনের সুরক্ষার আওতায় এসেছে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, ডিসপ্লে, সেকেন্ডারি ব্যাটারি এবং এআই প্রযুক্তি। দক্ষিণ কোরিয়া গুপ্তচরবৃত্তি আইনের সংস্কারে জোরালো সমর্থন দিয়েছে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মীদের বিরুদ্ধে ডির্যাম ও মেমোরি চিপের স্পর্শকাতর তথ্য বিদেশি প্রতিযোগীদের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ কয়েক ডজন প্রযুক্তি পাচারের চেষ্টা অনুসরণ করছে, যার বড় অংশই সেমিকন্ডাক্টর খাতকেন্দ্রিক।
বিশ্বের স্মৃতি চিপ উৎপাদনের বড় অংশ দক্ষিণ কোরিয়ায়। ফলে প্রযুক্তি সুরক্ষা সেখানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সমার্থক হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া গুপ্তচরবৃত্তি আইন কঠোর করার সিদ্ধান্ত এশিয়ার চিপযুদ্ধের আরেকটি অধ্যায়। একই সপ্তাহে চীন চিপ নকশায় এআই এজেন্ট নামানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এখানে দুটি পাঠ। এক, প্রযুক্তি খাতে কর্মী নিয়োগে পটভূমি যাচাই আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর হচ্ছে, যা বিদেশে কাজ করতে যাওয়া প্রকৌশলীদের জন্য নতুন শর্ত তৈরি করবে। দুই, মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক গোপনীয়তা রক্ষায় দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামো এখনো অনেকটাই পুরোনো। সিউল তিন বছরের সর্বনিম্ন সাজা ঠিক করেছে, ঢাকার আইনে সংখ্যাটি এখনো অনুপস্থিত।
মেটা বিবরণ: চিপ প্রযুক্তি রক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া গুপ্তচরবৃত্তি আইন সম্প্রসারিত, সর্বনিম্ন সাজা তিন বছরের কারাদণ্ড।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















