ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণ নিয়ে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উপেক্ষিত হয়েছে—এমনটাই মনে করেন ওয়াশিংটন ডিসির টি. মাইকেল স্পেন্সার। তাঁর মতে, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় রোমান নির্ধারিত সময়ের আগেই এবং অনুমোদিত বাজেটের চেয়েও কম খরচে প্রস্তুত হয়েছে।
সম্প্রতি রোমান স্পেস টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় স্পেন্সার বলেন, নাসার এই অর্জন যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রোমান শুধু প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ নয়, বরং সময় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এটি নাসার উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
রোমানের আগের প্রজন্মের মহাকাশ দূরবীক্ষণ হিসেবে হাবল স্পেস টেলিস্কোপকে ধরা হয়। কিন্তু হাবল নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সাত বছর দেরিতে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে হাবল প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এর বিপরীতে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের নয় মাস আগেই। পুরো কার্যকাল বিবেচনায় এর আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সময় ও ব্যয়ের উভয় ক্ষেত্রেই রোমান প্রকল্প হাবলের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতার উদাহরণ তৈরি করেছে।
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক প্রত্যাশা অবশ্য এর ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণকে ঘিরে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকে রোমান পৃথিবীতে প্রথম ছবি পাঠানো শুরু করলে মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হতে পারে।
স্পেন্সারের মতে, তখন মার্কিন করদাতাদের বিস্মিত হওয়ার কারণ শুধু রোমানের পাঠানো মহাজাগতিক ছবি হবে না; একই সঙ্গে তুলনামূলক কম ব্যয়ে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই এমন একটি অত্যাধুনিক মহাকাশ দূরবীক্ষণ তৈরি ও উৎক্ষেপণের সাফল্যও তাদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠবে।











