অক্টোবর মাসে দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) একই দিনে নির্দেশনা দিয়েছে। নতুন মাসেও ডিজেল বিক্রি হবে লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকায়। অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা। ১ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই দাম কার্যকর থাকবে।
বর্তমান দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে অক্টোবরের জন্যও সেই হার বহাল রাখা হয়েছে। সরকার এখন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও টাকার বিনিময় হার মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয় সূত্রে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চলছে। সেই চাপ গত মাসে দেশের বাজারেও এসে পড়েছিল। এবার দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাই ভোক্তাদের জন্য সাময়িক বিরতি। স্বয়ংক্রিয় সূত্রের উদ্দেশ্য বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের দামের ব্যবধান কমানো। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপও কমে। তবে দাম ঘন ঘন বদলালে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনো উঁচুতে। গত বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ডিসেম্বর চুক্তি ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ ডলারে লেনদেন শেষ করে। পুরো সেপ্টেম্বরে দাম বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা থমকে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশ্লেষকদের এক জরিপে ২০২৬ সালের গড় ব্রেন্ট দামের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৮৯ দশমিক ০৫ ডলার করা হয়েছে। এক মাস আগে এই পূর্বাভাস ছিল ৮৫ দশমিক ০৮ ডলার। বিশ্লেষকেরা এর পেছনে উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘ সরবরাহ বিঘ্নের কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের মজুত কমার খবরও দামে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন অবশ্য মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়লে ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গড় দাম ৭৭ ডলারে নামতে পারে। কিন্তু সেই স্বস্তি এখনো অনেক দূরে।
বাংলাদেশের জন্য ডিজেলের দামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য পরিবহন, বাস, নৌযান ও সেচপাম্প চলে মূলত ডিজেলে। তাই ডিজেলের দাম বদলালে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চাল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামে তার প্রভাব পড়ে। আমন কাটার পর সামনে বোরো মৌসুম, যখন সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদা অনেক বাড়ে। কৃষক ও পরিবহন খাত তাই অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম স্থির থাকাকে কিছুটা স্বস্তি হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্ববাজার না নামলে এই স্বস্তি কত দিন টিকবে, তা অনিশ্চিত। কেরোসিনের ১৫৫ টাকা দামও গ্রামের অনেক পরিবারের জন্য বড় খরচ। দেশে জ্বালানি তেলের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববাজারের প্রতিটি ওঠানামা এখানে দ্রুত টের পাওয়া যায়।
পরবর্তী দিকনির্দেশনা আসতে পারে রোববার, ৪ অক্টোবর। ওই দিন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের বৈঠক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জোটটি নভেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্য অপরিবর্তিত রাখবে। দাম স্থির রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই বৈঠক। নভেম্বরে দেশে লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকার ডিজেল টিকে থাকবে কি না, তার ইঙ্গিত মিলবে সেখান থেকেই।












