যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুই ডোজ দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক। বুধবার রাতের এ ঘটনার পর তাকে ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার আদালতে দেওয়া নথিতে তার আইনজীবীরা জানান, পাইক এখন অচেতন। তিনি ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস নিচ্ছেন। ক্রিস্টা পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন এক আইনি প্রশ্ন সামনে এনেছে। তাকে আবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে কি না, তা এখন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ড কার্যকর হলে তিনি দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী হতেন। শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াইয়ে প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। রাত ৭টা ২৬ মিনিটে শেষ বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই ডোজের পরও তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন, নাক ডাকছিলেন। টেনেসিতে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করা এক স্থানীয় সাংবাদিক বলেছেন, আগে দেখা কোনো ঘটনার সঙ্গে এর মিল নেই। তার মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি খুব খারাপভাবে এগিয়েছে।

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, শিরায় বসানো আইভি লাইন ঠিক জায়গায় ছিল না। ফলে ওষুধ রক্তে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে ঢুকেছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তার দুই হাত ফুলে গিয়েছিল, দেখা দিয়েছিল পোড়া ক্ষত ও ফোসকা। আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, পাইকের ভয় মৃত্যু নিয়ে ছিল না, ছিল দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু নিয়ে। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে, শুধু মৃত্যুটি হয়নি। টেনেসি সংশোধন বিভাগ অবশ্য বলছে, তারা অনুমোদিত প্রটোকল মেনেই প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেছে। আইনজীবীরা সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়ে জরুরি আবেদন করেছেন। তারা পাইকের দণ্ড যাবজ্জীবনে রূপান্তরেরও দাবি তুলেছেন। গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ডিসেম্বরে নির্ধারিত গ্যারি সাটনের মৃত্যুদণ্ডও রয়েছে। নিহত স্লেমারের পরিবার ক্লান্ত ও ক্ষুব্ধ, কারণ পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তারা রাজ্যের কাছ থেকে স্পষ্ট কিছু জানতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়ার নজির আগেও আছে। ১৯৪৬ সালে লুইজিয়ানায় ১৭ বছর বয়সী উইলি ফ্রান্সিস বৈদ্যুতিক চেয়ারের যান্ত্রিক ত্রুটিতে বেঁচে যান। সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদন খারিজ করে এবং পরে দ্বিতীয় দফায় তার দণ্ড কার্যকর হয়। ২০০৯ সালে ওহাইওতে রোমেল ব্রুমের শিরায় পথ তৈরি করা যায়নি। ২০১৬ সালে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, এটি ছিল কেবল প্রস্তুতি, মূল কার্যক্রম নয়। ব্রুম ২০২০ সালে কোভিড-১৯-এ মারা যান। এ বছরের মে মাসে টেনেসিতেই টনি কারুথার্সের ক্ষেত্রেও একই সমস্যায় ইনজেকশন দেওয়া যায়নি। তবে ক্রিস্টা পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড এসব ঘটনা থেকে আলাদা, কারণ প্রাণঘাতী ওষুধ বাস্তবেই তার শরীরে ঢুকেছে। অ্যামহার্স্ট কলেজের অধ্যাপক অস্টিন সারাতের মতে, বন্দি বেঁচে গেলে আইনি ব্যবস্থাকে কঠিন এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়: এরপর কী?

বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে, যা কার্যকর হয় ফাঁসির মাধ্যমে। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া কতটা নির্ভুল ও স্বচ্ছ, সেই প্রশ্ন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়। ক্রিস্টা পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড দেখিয়ে দিল, প্রক্রিয়ায় একটি ভুল কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পাইকের ভবিষ্যৎ এখন তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে: গভর্নরের পর্যালোচনা, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি।












