বাংলাদেশে যারা সাংবাদিকতাকে জীবনের শুরু থেকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তৌফিক ইমরোজ খালেদি ছিলেন তাদের একজন। অন্য কোনো পেশায় ব্যর্থ হয়ে বা বিশেষ সুবিধার জন্য তিনি এ পেশায় আসেননি। তাই ভবিষ্যৎ ইতিহাস যখন বাংলাদেশে ব্যর্থ রাজনীতিবিদ, ব্যর্থ লেখক, ব্যর্থ এনজিও কর্মী, ব্যর্থ কন্ডাক্টর—এমনই নানান বহিরাগতকে সাংবাদিকতার পেশা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের একটি তালিকা তৈরি করবে, সেই তালিকায় তৌফিক ইমরোজ খালেদি থাকবেন।
তৌফিক ইমরোজ খালেদি কতটুকু সাংবাদিকতা করতে পেরেছিলেন, সেই হিসাব তার মৃত্যুকে ঘিরে এই সম্পাদকীয় লেখায় বিশ্লেষণ না করাই ভদ্রতা। তবে বাংলাদেশের মতো দেশে ওই অর্থে সাংবাদিকতা করা যায় না। তার পরেও যারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কিছুটা সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেন, তিনিও তাদের একজন ছিলেন। সস্তা জনপ্রিয়তা বা গোষ্ঠীপ্রিয় হওয়ার জন্য সাংবাদিকতার নামে রাষ্ট্র ও সমাজের মূল্যবোধের ক্ষতি হয়—এ দিকটিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। বাঙালি হিসেবে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ। তাই তার অকালপ্রয়াণে দেশ ও সমাজ একজন সাংবাদিক ও একজন প্রকৃত বাঙালিকে হারাল।
তার স্বজনদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে, এটাই সত্য। আর যে প্রতিষ্ঠান ও তিনি প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সামনেও একই সত্য এসে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রকৃতির নিয়মে সবই একসময় আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে। এখানেও তেমনটি ঘটবে। শুধু পৃথিবীতে রইলেন না তৌফিক ইমরোজ খালেদি, যিনি বাংলাদেশের মতো একটি দেশে বসেও সাংবাদিকতা করতে চেয়েছিলেন।












