বিশ্ববাজারে নিকেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় নতুন নিকেল স্মেল্টার স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা ভাবছে ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিকেল উৎপাদক দেশটি একই সঙ্গে মূল্য ধরে রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে শিল্পনীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিচ্ছে।
দেশটির সমন্বিত ডাউনস্ট্রিম শিল্পায়ন (খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ) ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া জানিয়েছেন, কোন ধরনের শিল্প চালু রাখা হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা স্থাপনে সাময়িক বিরতি দেওয়া প্রয়োজন, তা সরকার পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে আধা-প্রক্রিয়াজাত নিকেল উৎপাদনকারী নতুন কারখানার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ বিবেচনা করা হচ্ছে।
আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্যে অতিরিক্ত নির্ভরতা
ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নিকেল স্মেল্টার এখনো আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করে। কিন্তু দেশটির হিসাবে বিশ্ববাজারে নিকেলের সরবরাহ ইতোমধ্যে চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৫ লাখ টন বেশি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার তাই নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির পরিবর্তে সরাসরি উচ্চমূল্যের চূড়ান্ত শিল্পপণ্য উৎপাদনকারী কারখানাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। সরকারের লক্ষ্য, কাঁচামাল রপ্তানি বা আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিকেল থেকে বেশি মূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদন করা।
নিকেলের দামে চাপ
ফিচের বিএমআই রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর নিকেলের দাম চলতি বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে প্রতি টন ১৫ হাজার ৫১০ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। ইন্দোনেশিয়ার সরবরাহনীতি আগামী দিনে বাজারে দামের ওপর আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশটিতে খনন কোটায় বেশি নমনীয়তার কারণে স্মেল্টারগুলোর কাঁচামাল সরবরাহের সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমেছে। এর সঙ্গে বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অতিরিক্ত সরবরাহ ও উচ্চ মজুত যুক্ত হয়ে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে।
স্মেল্টার সক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ইন্দোনেশিয়ার নিকেল খনি মালিকদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ৪২২টি সক্রিয় নিকেল খনি অনুমতি রয়েছে, যেগুলো ৭৯টি স্মেল্টারে কাঁচামাল সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৫৫টি আরকেইএফ প্রযুক্তির প্ল্যান্ট, ১০টি এইচপিএএল প্রযুক্তির প্ল্যান্ট, ১০টি নিকেল ম্যাট উৎপাদনকারী কারখানা এবং ছয়টি সমন্বিত স্টেইনলেস স্টিল স্মেল্টার রয়েছে।
সবগুলো কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টন নিকেল আকরিকের প্রয়োজন হতে পারে। বিপরীতে, চলতি বছর দেশটির নিকেল আকরিক উৎপাদন প্রায় ২৯ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে। বছরের শুরুতে নির্ধারিত ২৬ কোটি থেকে ২৭ কোটি টনের কোটার চেয়েও এই উৎপাদন বেশি।
ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা
নির্মাণাধীন নিকেল স্মেল্টারগুলোর বছরে প্রায় ৩২ কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। ফলে সামনে সরবরাহ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বাহলিল বলেছেন, বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের স্মেল্টারগুলোর উৎপাদনও সমন্বয় করা হবে। শুধু দেশের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও স্মেল্টারগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে জাতীয় উৎপাদন নির্ধারণ করা হবে না। কারণ স্মেল্টারের চাহিদা অনুসরণ করে উৎপাদন বাড়াতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়ে দাম আরও কমে যেতে পারে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত বাড়তে থাকা স্মেল্টার সক্ষমতা ইন্দোনেশিয়ার নিকেল মজুতও দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান উৎপাদনের হার অব্যাহত থাকলে দেশটির স্যাপ্রোলাইট নিকেলের মজুত প্রায় ছয় বছর এবং লিমোনাইটের মজুত প্রায় ১৬ বছর টিকতে পারে।












