রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন। অন্যদিকে, জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানোর এই উদ্যোগ এমন একটি যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে পারে, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঘোষিত সরবরাহ বাস্তবে নিশ্চিত হবে কি না এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দেব, ইউক্রেন এমন একজন নতুন নেতা পাক, যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। তিনি অনেকবারই চুক্তি করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তা করেন না।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতা
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পুতিন অবিলম্বে বিশ্ববাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। আগামী নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় প্রথম দুই দফার সরবরাহের মোট পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল ডিজেলের সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ডিজেল দেশটির প্রায় দেড় দিনের চাহিদার সমান। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে রাশিয়ার সরবরাহ সক্ষমতা, রপ্তানিসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, পরবর্তী সময়ে রাশিয়া কয়েক মিলিয়ন টন ডিজেল সরবরাহ করতে পারে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
ক্রেমলিনের বিবরণ অনুযায়ী, পুতিন ট্রাম্পকে বলেছেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে ঘোষিত পরিমাণ ডিজেল বাস্তবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার কারণে দেশটির জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে রাশিয়ার হাতে বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
শোধনাগারে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ
একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা নিয়ে ট্রাম্প আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। এসব হামলা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার কিয়েভকে অনুরোধ করেছিল বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে ইউক্রেন সেই অনুরোধ মেনে হামলা বন্ধ করেনি বলে তাঁর দাবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ইউক্রেন রাশিয়ার পাঁচটি তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে। ট্রাম্প ডিজেল সরবরাহের সমঝোতা ঘোষণার পরও ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ নতুন হামলার তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইউক্রেনের এসব হামলা রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শুক্রবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রুশ শোধনাগারে হামলা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে ডিজেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও তাঁরা জানান বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ডিজেলের দাম কি সত্যিই কমবে?
রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণার পরও আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারের বিশ্লেষকেরা ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ড্যান পিকারিংয়ের হিসাবে, বছরের শেষ নাগাদ এই উদ্যোগের ফলে ডিজেলের সরবরাহ প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে তাঁর মতে, এতে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
পিকারিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ কিছুটা সহায়তা করতে পারে, কিন্তু ডিজেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় পরিবর্তন আনার মতো নয়। সরবরাহের পরিমাণ টনে উল্লেখ করায় সংখ্যাটি সাধারণ মানুষের কাছে বড় মনে হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাশিয়া গত জুলাইয়ের শুরুতে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় আট লাখ ব্যারেল ডিজেলের সরবরাহ কমে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে হলে আগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা শিথিল করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হবে, কোন শর্তে তা বিক্রি হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে, তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণ প্রভাব নির্ধারণ করা কঠিন।
ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্বালানি, জলবায়ু ও সম্পদবিষয়ক দলের বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউয়ের মতে, রাশিয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করলেও তা বড় ধরনের সমাধান হবে না; বরং সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তাঁর ধারণা, ট্রাম্পকে সহায়তা করার বিনিময়ে পুতিন ইউক্রেনের শোধনাগারে হামলা বন্ধের প্রত্যাশা করতে পারেন। তবে জেলেনস্কি এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
শুক্রবার লেনদেন শেষে ডিজেল ফিউচার্সের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। তবে এক দিনের এই দরপতনকে চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।
রাশিয়ার জ্বালানি আয় ও নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। কিয়েভের যুক্তি, তেল ও গ্যাস বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অন্যতম প্রধান অর্থায়নের উৎস।
এ কারণে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন ডিজেল সরবরাহের সমঝোতা নিষেধাজ্ঞাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিষেধাজ্ঞানীতিবিষয়ক সাবেক উপপ্রধান সমন্বয়ক রিচার্ড নেপিউয়ের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞাব্যবস্থার ওপর যে প্রভাব পড়তে পারে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, পুতিন বাস্তবে ঘোষিত পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে পারবেন কি না, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। তাঁর মতে, ট্রাম্প এই সমঝোতাকে নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। বাজারেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এসব মন্তব্য বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন। রাশিয়ার প্রকৃত সরবরাহ সক্ষমতা এবং সমঝোতার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো সীমিত।
যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু
রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চললেও ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ধারাবাহিক আকাশপথে হামলা দেশটির বেসামরিক মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউক্রেনের একটি বাসস্টপে হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া এলাকায় রাশিয়ার আরেকটি হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির আশঙ্কা, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানো হলে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমতে পারে। ইউক্রেনের দৃষ্টিতে, যুদ্ধ বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপের পরিবর্তে রাশিয়াকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ দেওয়া সংঘাতের অবসানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্য হলো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা প্রয়োজন। গত মাসেও তিনি দুই পক্ষকে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আলোচনার সময়েই পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যখন ফ্লোরিডার মায়ামিতে পৌঁছায়, তখনই ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার ঘোষণা দেন। ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা চলার সময় রাশিয়ার নেতার সঙ্গে এমন সমঝোতার ঘোষণা কিয়েভের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, তাঁর দল যখন ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুশ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে আলোচনার সময় এবং ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।
মায়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের আলোচনার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে অগ্রগতি অর্জন করা। কিন্তু একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সমঝোতা ঘোষণায় কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের একটি সমাধান দেখতে চান। তবে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য শর্ত, সময়সীমা কিংবা সমঝোতার কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেনে নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের আহ্বান
ডিজেল চুক্তির পাশাপাশি ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
তবে ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধ চলাকালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। ফলে ট্রাম্পের এই আহ্বান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে।
জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের পথ নিয়ে মতপার্থক্য নতুন নয়। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি একাধিকবার সমঝোতার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাননি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের অবস্থান হলো, যুদ্ধের অবসান এমন শর্তে হতে হবে, যাতে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শনিবার এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন।
পেন্সের মতে, এই সমঝোতা প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নেতৃত্ব ও ইউক্রেনকে সহায়তা করার পক্ষে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয় রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থাকে নতুন করে সহায়তা দেওয়া। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
এই সমালোচনা থেকে বোঝা যায়, জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার নীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য রয়েছে।
নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিজেল পরিবহন, কৃষিকাজ ও বিভিন্ন শিল্পের ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর দাম বাড়লে অন্যান্য পণ্য ও সেবার খরচও বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।
এর আগে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিশেষ রংযুক্ত ডিজেলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণাও একই লক্ষ্য সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত সমঝোতার ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম দ্রুত কমবে। তবে তাঁর এই দাবির বিষয়ে জ্বালানি বিশ্লেষকেরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা বাস্তবায়িত হলেও বিশ্ববাজারে তার প্রভাব সীমিত হতে পারে। রাশিয়ার রপ্তানিসংক্রান্ত বিধিনিষেধ, শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতি এবং ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত থাকলে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতা একদিকে জ্বালানির দাম কমানোর মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন বিতর্কের কারণ হয়েছে। এই উদ্যোগের বাস্তব ফল নির্ভর করবে রাশিয়া কতটা ডিজেল সরবরাহ করতে পারে, বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি কতটা কমে এবং সমঝোতাটি ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, তার ওপর।












