মিয়ানমার এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চীনের ওপর বিরল খনিজের নির্ভরতা কমানো এবং মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত আন্তদেশীয় প্রতারণা চক্র দমনের প্রয়োজন ওয়াশিংটনের কাছে দেশটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। কিন্তু এই দুই স্বার্থ পূরণের তাগিদে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোলে যুক্তরাষ্ট্র একটি মৌলিক ভুল করতে পারে—জান্তার সঙ্গে যোগাযোগকেই পুরো মিয়ানমারের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বলে ধরে নেওয়া।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা কোনো একক কেন্দ্রের হাতে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির প্রতিরোধ আন্দোলন, জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ও প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে রাজধানী নেপিদোর সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতা করলেই দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা যাবে—এমন ধারণা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
ওয়াশিংটনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন, তারা কি স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য জান্তার সঙ্গে সম্পর্কের পথ বেছে নেবে, নাকি মিয়ানমারের বহুকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গড়ে তুলবে?
ওয়াশিংটনের স্বার্থ ও মিয়ানমারের গুরুত্ব

মিয়ানমারের অবস্থান ভারত ও চীনের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায়। দেশটি মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল খনিজ উৎপাদক। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি মিয়ানমার।
এই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি স্বার্থকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। প্রথমত, চীন-প্রভাবিত বিরল খনিজ সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের বিস্তার রোধ করা। কিন্তু এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে জান্তাকে সহযোগী হিসেবে বেছে নেওয়া কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রচারের তুলনায় সরাসরি জাতীয় স্বার্থের ওপর জোর বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ‘নমনীয় বাস্তববাদ’-এর কথা বলা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গ্রহণকে পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হয়।
মিয়ানমারের ক্ষেত্রে এই নীতিগত পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে দেশটির সামরিক শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাদের সুবিধা হতে পারে—এমন ব্যবসায়িক উদ্যোগের পথে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্ন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা ওয়াশিংটনকে ভিন্নভাবে ভাবতে প্ররোচিত করতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি সরকার জান্তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করতে পারেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আঞ্চলিক প্রতিযোগীরা মিয়ানমারের বাজারে আগে প্রবেশ করে সুবিধা পাবে। তবে অস্থিতিশীল বাজারে প্রথম বিনিয়োগকারীদেরই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বহন করতে হয়। ফলে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত অনিশ্চয়তাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
ওয়াশিংটনের পুরোনো ভুল
মিয়ানমার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে দীর্ঘদিনের একটি দুর্বলতা হলো, দেশটির জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা। নব্বই ও দুই হাজারের দশকে ওয়াশিংটন মূলত অং সান সু চি এবং সামরিক নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। অথচ জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোরও নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি ছিল।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এই বাস্তবতা আরও বদলে গেছে। অং সান সু চি বন্দি। বিরোধী শক্তি জাতীয় ঐক্য সরকার, জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বহু অঞ্চলে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর প্রভাব বেড়েছে। ফলে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন একক কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই।
চীনও মিয়ানমারের বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু জান্তার সঙ্গে সমঝোতাকে কার্যকর পথ মনে করে, তাহলে দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতার বড় অংশ উপেক্ষিত থেকে যাবে।
জান্তা এই দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে তারা প্রভাবশালী লবিং প্রতিষ্ঠানের পেছনে অর্থ ব্যয় করেছে। তাদের বার্তা হলো, সামরিক সরকারই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ পূরণে কার্যকর অংশীদার হতে পারে। কিন্তু এই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই না করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্য ব্যয়বহুল ভুল হতে পারে।
অতীতের সমঝোতা কেন সতর্কবার্তা
মিয়ানমারের সামরিক শাসকেরা অতীতেও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার নজিরও রয়েছে।
২০০২ সালের মে মাসে অং সান সু চিকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে লবিং করতে একটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করা হয়। সে সময় জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মিল রেখে মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাসবাদ দমন, বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের মে মাসে দেপাইয়িনের কাছে অং সান সু চির বহরে জান্তাপন্থী হামলাকারীরা আক্রমণ চালায় এবং তাঁকে আবার আটক করা হয়।
২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের অধীনে আরেকটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল, ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করে এবং বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে।
এই পর্যায়ের সংস্কারগুলো আগের সামরিক শাসনের তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি এনেছিল। তবে ২০২১ সালের অভ্যুত্থান সেই রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ভেঙে দেয়। সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং আবার অং সান সু চিকে আটক করে। ফলে অতীতের রাজনৈতিক উন্মুক্ততার অভিজ্ঞতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা বর্তমান বাস্তবতার বিকল্প হতে পারে না।

আজকের জান্তা সেই নেতৃত্ব নয়, যারা একসময় সীমিত সংস্কারের পথ নিয়েছিল। বরং বর্তমান সামরিক নেতৃত্বই সেই পরিবর্তন উল্টে দিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা তাই সতর্ক করে যে কেবল কূটনৈতিক আশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় না।
জান্তার সঙ্গে সমঝোতার মূল্য
জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেই যুক্তরাষ্ট্র বিরল খনিজের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে কিংবা অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে থাকা সামরিক শাসনকে টিকে থাকার অবকাশ দিতে পারে।
জান্তার রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানও দৃশ্যত চাপের মুখে। সামরিকপন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধের কারণে কংগ্রেস স্থগিত করেছে বলে খবর রয়েছে। সেনাবাহিনীতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগতদের পদোন্নতি দেওয়াও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক বাহিনী সম্মুখসারির সেনাদের বড় অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর নির্ভর করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও জান্তার অগ্রগতি সীমিত। কাচিন রাজ্যে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি সেনাবাহিনী। রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ভূখণ্ড পুনর্দখলের অভিযানও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। কারেন রাজ্যেও কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও তাদের মিত্ররা সামরিক বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
অর্থনৈতিক চাপও পরিস্থিতিকে কঠিন করছে। মিন অং হ্লাইং নিজেই অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। উচ্চ সুদে বেলারুশের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ বিকল্প অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক জেট জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জান্তা ইয়াঙ্গুনের কাছে থানলিন শোধনাগারে নিজস্ব বিমান জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে, যেখানে চীনা কোম্পানির কারিগরি ও উপকরণগত সহায়তা রয়েছে।
এসব ঘটনা জান্তার আসন্ন পতন নিশ্চিত করে না। তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর জন্য তাদের তৎপরতা যে অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে চলছে, তা স্পষ্ট। এই সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে, যার স্থিতিশীলতা ও প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
ওয়াশিংটনের সামনে তিনটি পরীক্ষা
মিয়ানমার নীতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর।
প্রথমত, মার্কিন কংগ্রেস কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। বার্মা আইন বাস্তবায়ন এবং ব্রেভ বার্মা আইন এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা যায় কি না, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা। ব্রেভ বার্মা আইন এখনো সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির পর্যালোচনার সূচিতে স্থান পায়নি বলে মূল নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্বিদলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগও সীমিত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা গুরুত্বপূর্ণ। বিরল খনিজ ও বাণিজ্য নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি চিনপিংয়ের আলোচনায় অগ্রগতি হলে বিকল্প উৎস হিসেবে মিয়ানমারের প্রতি ওয়াশিংটনের জরুরি আগ্রহ কমতে পারে। বিপরীতে, দ্বন্দ্ব বাড়লে মিয়ানমারের সম্পদ পাওয়ার তাগিদও বাড়তে পারে, যা জান্তার প্রস্তাবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
তৃতীয়ত, মিয়ানমারের প্রতিরোধ শক্তিগুলো কতটা বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প উপস্থাপন করতে পারে, সেটিও নির্ধারক হবে। বিশেষ করে ফেডারেল গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পরিচালনা পরিষদের মাধ্যমে তারা যদি সমন্বিত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে এবং বিরল খনিজ, আন্তর্জাতিক প্রতারণা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বাস্তব ফল দেখাতে পারে, তাহলে ওয়াশিংটনের সামনে জান্তার বাইরে কার্যকর অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
মিয়ানমারকে জান্তার সমার্থক ভাবার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল হবে মিয়ানমারকে শুধু তার সামরিক শাসকের মাধ্যমে দেখা। জান্তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়তো স্বল্পমেয়াদে কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু তা পুরো দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, স্থানীয় ক্ষমতাকেন্দ্র এবং প্রতিরোধ শক্তিগুলোর প্রভাবকে প্রতিফলিত করে না।
বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা কিংবা প্রতারণা চক্র দমন—কোনো লক্ষ্যই শুধু নেপিদোর সঙ্গে চুক্তি করে অর্জন করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝা, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা এবং স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জবাবদিহির শর্ত নির্ধারণ করাই অধিক টেকসই পথ।
ওয়াশিংটন যদি কেবল দ্রুত ফলের আশায় জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তাহলে তা মিয়ানমারের সমস্যার সমাধান না করে সামরিক শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। আর যদি দেশটির বিকেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝে নীতি তৈরি করে, তবে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে।
লেখক পরিচিতি: ইথান মিইন্ট (Ethan Myint) বার্মা অ্যাডভোকেসি গ্রুপের স্বাধীন অ্যাডভোকেসি পরামর্শক এবং স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের শিক্ষার্থী।












