কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেওয়ার জেরে দুই ভাইকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁদের একটি মুঠোফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।
আহত দুই ভাই হলেন কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকার রহমত আলীর ছেলে সোহাগ ও সোহেল। পরিবারের অভিযোগ, ২৫ থেকে ৩০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে সোহেল গুরুতর আহত হন। ছোট ভাই সোহাগ তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
শিশুর চিকিৎসা বন্ধ করে হাসপাতাল ছাড়ল পরিবার
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহেলের ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁরা শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেন।
আহত দুই ভাইয়ের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, হামলার সময় সোহাগের মুঠোফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুঠোফোনটি উদ্ধার করা গেলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আগের ঘটনার প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট
পরিবারের দাবি, গত ২৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদে সোহাগ ও সোহেল ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। সেই পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন রাত ১১টার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত এক রোগীর হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ তাঁদের আদালতে পাঠায়।
এরপর দুই ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেন। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁরা হাসপাতালে প্রবেশ করলে একদল শিক্ষার্থী তাঁদের ‘দালাল’ বলে চিৎকার করেন এবং ফেসবুক পোস্টের জেরে মারধর করেন।
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
মারধরের ঘটনার পর সোহাগ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য বা পুলিশের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।












