সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ঢাকা থেকে আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটে টিকিট কাটা ছিল ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রীর। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলার পর বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সৌদিগামী প্রবাসী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদিয়ার তিনটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, রিয়াদ এয়ারের দুটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট রয়েছে। বিমান শনিবার রাতেই এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি দেয়। তাতে ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি-৩৩৯ ও বিজি-৩৪০ ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৩টা পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ থাকছে। বিমান জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টায় ফ্লাইট ও নতুন সূচি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।
যাঁদের এই রুটে টিকিট আছে, তাঁদের আপাতত বিমানবন্দরে না যেতে বলেছে বিমান। সংস্থাটি যাত্রীদের কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে বলেছে। চাইলে নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রেও যাওয়া যাবে। টিকিটের টাকা ফেরত বা নতুন তারিখ নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাই ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বাতিল নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা যাত্রীদের জন্য পরামর্শ একটাই। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে নিজের এয়ারলাইনসের সঙ্গে কথা বলে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন। অন্য শহর থেকে ঢাকায় আসার আগেও এটি নিশ্চিত করা জরুরি। টিকিট, পাসপোর্ট ও ভিসার কপি হাতের কাছে রাখুন। এয়ারলাইনসের পাঠানো খুদে বার্তা ও ইমেইল নিয়মিত দেখুন। দালাল বা অচেনা কারও কথায় টিকিট বদলাতে গিয়ে বাড়তি টাকা দেবেন না। সরাসরি এয়ারলাইনস বা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই যোগাযোগ করুন।
সৌদি আরব বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় গন্তব্যগুলোর একটি। প্রতিদিন বহু কর্মী ছুটি শেষে কাজে ফেরেন, আবার নতুন ভিসায়ও অনেকে যান। ফ্লাইট বন্ধ থাকলে অনেকের ভিসার মেয়াদ ও কাজে যোগ দেওয়ার তারিখ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরাও রিয়াদে আটকে পড়েছেন। এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ফলে সৌদিতে থাকা স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশে পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যাত্রার তারিখ পিছিয়ে গেলে নিয়োগকর্তাকে আগেভাগে জানিয়ে রাখা ভালো। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এমন কর্মীদের রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গেও কথা বলে রাখা উচিত। এতে পরে কাগজপত্রের ঝামেলা কম হবে।
এখন সবার নজর দুটি সময়ের দিকে। প্রথমটি সোমবার ভোর ৩টা, যখন রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধের বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে। দ্বিতীয়টি দুপুর ১২টা, যখন বিমান নতুন সূচি জানানোর কথা বলেছে। বিমানবন্দর খুলে গেলেও জমে থাকা যাত্রীদের পাঠাতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। আর মেয়াদ আবার বাড়লে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার তালিকা আরও লম্বা হবে। সে ক্ষেত্রে দাম্মাম বা জেদ্দা হয়ে বিকল্প পথে যাত্রার ব্যবস্থা নিয়েও এয়ারলাইনসগুলোর কাছ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দরকার হবে।












