আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎদীপক। মোদিকে ‘ভারতের জন্য বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভীরু’ ও ‘দাদাগিরি করা ব্যক্তি’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎদীপক লেখেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ভারতের জন্য বিব্রতকর। তাঁর ভাষ্য, ভারত এর আগে এত বড় ভীরু ও দাদাগিরি করা কাউকে দেখেনি। দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজ থেকে অভিজিৎদীপক, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে পুলিশ। উড়োজাহাজটি দিল্লিতে অবতরণের কয়েক মিনিট পরই তাঁদের আটক করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৪২৮ ফ্লাইটটি সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে দিল্লিতে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উড়োজাহাজটিকে আর১২ নম্বর দূরবর্তী পার্কিং এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই তিনজনকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বছরের শর্তে মুক্তি
আটকের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অভিজিৎদীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁদের মুক্তির ক্ষেত্রে একটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী এক বছর তাঁদের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না।
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা ও আটকের ঘটনার পরও রোববার আবার যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনাও ছিল সিজেপির। শনিবারের ধরপাকড়ের পর দিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার, যন্তর মন্তরে প্রবেশ বন্ধ
রোববার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখার পরিকল্পনা করে পুলিশ। যন্তর মন্তর বন্ধ রাখা, রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো এবং ৩০টি স্থানে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সিজেপির নেতা অজিঙ্ক্য শিন্দে বলেন, অভিজিৎদীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে সরকার ভেবেছিল আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে যাবেন। কিন্তু তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শনিবার দিল্লিতে আনুমানিক সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। একই সময়ে, মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদনের শুনানির প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ, আন্দোলনকারীদের পুনরায় জমায়েত হওয়ার ঘোষণা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি—সব মিলিয়ে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।












