ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর ও সৌদি আরব। চারটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, কোনো অজুহাতেই এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য বা ন্যায়সংগত হতে পারে না।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর আগের দিন হুথিদের দাবি করা আরেকটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। ধারাবাহিক এসব হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
চারটি দেশকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোটটি ‘আর৪’ নামে পরিচিত। যৌথ বিবৃতিতে তারা সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে হামলা মোকাবিলা, সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেওয়া সব বৈধ পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার পরিণতি এবং এর ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যে হুমকি তৈরি হতে পারে, তার জন্য হুথি গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে। দেশগুলো হামলা অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি
হুথি হামলার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত আগস্টে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল ধারণা হলো, কোনো এক পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত সপ্তাহে দেশগুলো জানায়, তারা যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একমত হয়েছে। পাশাপাশি হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান কিছুটা সতর্ক। গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা মূল্যায়ন করছে আঙ্কারা। তবে তিনি সেনা মোতায়েন এবং আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে তুরস্কের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
এর আগের দিন কয়েকজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে তুরস্ক। অর্থাৎ, দেশটির সহায়তার ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক অভিযানের পরিবর্তে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন এখনো বাকি
সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন পর্যন্ত মূলত দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। কারণ, দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি পার্লামেন্টে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে দেশটির। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনেও তুরস্কের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে।
সৌদি আরবকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে তুরস্ক। এ ছাড়া লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে দেশটি।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমর্থন এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়ন, তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং হুথিদের হামলা বন্ধে দেশগুলো কী পদক্ষেপ নেয়, তা পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।













