যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো সামনে আসে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি দেশের অবস্থান নির্ধারণে আরেকটি শক্তি সমান গুরুত্বপূর্ণ, দক্ষ কূটনীতি। বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের দায়িত্ব দেওয়া এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এই ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নিয়োগব্যবস্থায় যে পরিবর্তন ঘটছে, তা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
সমস্যাটি শুধু বিদেশে কয়েকটি রাষ্ট্রদূতের পদ খালি থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অনুগতদের নিয়োগের প্রবণতা, পেশাদার কূটনীতিকদের ভূমিকা সংকুচিত করা এবং দূতাবাস পরিচালনায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া। এসব পরিবর্তন একত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়ন, সংকট মোকাবিলা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের পদ খালি, কৌশলগত যোগাযোগও দুর্বল
৩০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিরতির আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ১০ জন নতুন রাষ্ট্রদূতকে অনুমোদন দেয়। তাঁদের মধ্যে কেনিয়া, নিকারাগুয়া, মালয়েশিয়া ও কিরগিজস্তানের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরাও ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও সমস্যার ব্যাপ্তি তাতে কমেনি। মোট ১৯৬টি রাষ্ট্রদূত পদের মধ্যে ৯২টি তখনো শূন্য ছিল।

কিছু ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস প্রার্থীর নামই সিনেটে পাঠায়নি। অন্য ক্ষেত্রে মনোনয়ন জমা পড়লেও সিনেট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের দেড় বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পরও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ না হওয়াকে তাই নিছক প্রশাসনিক বিলম্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রদূত কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি দুই সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিরাপত্তা সংকট, বাণিজ্যিক বিরোধ, আঞ্চলিক উত্তেজনা কিংবা জরুরি কূটনৈতিক আলোচনায় তাঁদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ প্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকলে ওয়াশিংটনের পক্ষে স্থানীয় পরিস্থিতি বোঝা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। একইভাবে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে নিজেদের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা দুরূহ হয়ে পড়ে।
পেশাদার কূটনীতির বদলে রাজনৈতিক আনুগত্য
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবে মনোনীত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত করার প্রথা বহুদিনের। অন্য দেশেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়োগের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, আর মনোনীতদের একটি অংশের সরকারি প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা থাকে না।
প্রবণতাটি সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। বারাক ওবামার প্রশাসনে রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে মনোনীত ব্যক্তিদের হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন এবং পরবর্তী জো বাইডেনের প্রশাসনে তা বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটে পাঠানো রাষ্ট্রদূত মনোনয়নের প্রায় ৮০ শতাংশই রাজনৈতিক নিয়োগ বলে উল্লেখ করেছেন ডোনাল্ড হেফলিন।

এই প্রবণতা শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়; নিয়োগের যোগ্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। লেখকের উল্লেখ করা উদাহরণগুলোর মধ্যে ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত লি লিপটন একজন রেস্তোরাঁর মালিক, ট্রাম্পের মার-এ-লাগো ক্লাবের সদস্য এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অনুদানদাতা। গ্রিসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কিম্বারলি গিলফয়েল, যিনি ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা এবং তাঁর ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক বাগ্দত্তা।
রাজনৈতিক আস্থাভাজনদের রাষ্ট্রদূত করার বিষয়টি নতুন নয়। পরিবর্তনটি হলো, এখন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল দেশগুলোর দায়িত্বেও এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাঁদের পেশাগত কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা সীমিত হতে পারে। অতীতে চিলি, ইসরায়েল, পেরু, ফিলিপাইন, তুরস্ক ও মিসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশে সাধারণত অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল। এই রীতিতে পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির পেশাদার ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে।
অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার মূল্য
রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি দূতাবাসের উপপ্রধান বা ডেপুটি চিফ অব মিশনও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁরা দৈনন্দিন প্রশাসন সামলান, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করেন এবং রাষ্ট্রদূতকে স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত রাখেন। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূতদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ উপপ্রধানের উপস্থিতি প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখতে এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে সহায়ক।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূতদের অনেক সময় পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া উপপ্রধানদের পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এতে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হতো এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ সময় শূন্য থাকত। ২০২৫ সালে পররাষ্ট্র দপ্তর আরও এক ধাপ এগিয়ে দূতাবাসে দায়িত্ব নিতে যাত্রাপথে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করে এবং নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করে। হেফলিনের মতে, এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল সরকারি প্রশাসনের এমন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া, যাঁদের বিরোধীরা ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ বলে আখ্যা দেয়।
কিন্তু অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিলে শুধু জনবল কমে না; প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া একজন রাষ্ট্রদূতকে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ, সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নীতিগত সীমাবদ্ধতা বুঝতে সহায়তা করার মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তা না থাকলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ে।

প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির জন্য সুযোগ
রাষ্ট্রদূত নিয়োগে বিলম্বের কৌশলগত মূল্য বোঝা যায় শূন্য পদগুলোর দিকে তাকালে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিবেশী বেলারুশ ও বুলগেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদ খালি ছিল। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কুয়েত, কাতার ও মৌরিতানিয়াও একই পরিস্থিতির মুখে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ইন্দোনেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মিসর এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানেও রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন হাইতি ও গুয়াতেমালার মতো দেশও এই তালিকায় রয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্তনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও এর যোগ রয়েছে।
এদিকে চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব সীমিত করতে চায়, তখন ফিজি, ইন্দোনেশিয়া ও লাওসে রাষ্ট্রদূত না থাকা তার কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ খালি থাকার সময়ে চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। একইভাবে, জর্জিয়া, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতি রাশিয়ার আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতি অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দেশের সাফল্য নিশ্চিত করে না। কিন্তু কূটনৈতিক যোগাযোগ দুর্বল হলে অন্য শক্তিগুলোর জন্য সম্পর্ক গড়ে তোলা, প্রভাব বিস্তার এবং অংশীদার দেশগুলোর আস্থা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
কূটনীতি দুর্বল হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় স্বার্থ

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামোর বর্তমান সংকটকে তাই শুধু নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতা, সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা ধরে রাখার প্রশ্ন। সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে ওয়াশিংটন বহু ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, কিন্তু সেই প্রভাবকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ফলাফলে রূপ দিতে প্রয়োজন দক্ষ কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
রাজনৈতিকভাবে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়োগের পেছনে প্রশাসনের নিজস্ব যুক্তি থাকতে পারে। নির্বাচিত সরকারের নীতি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রদূতের আনুগত্যও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আনুগত্য ও যোগ্যতাকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা বিপজ্জনক। রাষ্ট্রদূতকে শুধু প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরলেই চলে না; তাঁকে স্থানীয় বাস্তবতা বুঝতে হয়, জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং প্রয়োজন হলে নিজের সরকারের ধারণা ও নীতির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে জানাতে হয়।
একইভাবে, পেশাদার কূটনীতিকদের অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অবমূল্যায়ন করলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকার বদলাতে পারে, কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা একবার নষ্ট হলে তা দ্রুত পুনর্গঠন করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্র যদি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চায়, তবে তাকে কেবল সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দিলে চলবে না। বিদেশে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ধরে রাখা এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ বজায় রাখাও সমান জরুরি।
কূটনীতির শক্তি অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না। কোনো সংকট এড়ানো, একটি ভুল বোঝাবুঝি নিরসন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সচল রাখা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির প্রভাব সীমিত করার মধ্য দিয়ে এর মূল্য প্রকাশ পায়। কিন্তু সেই কাজ করার জন্য প্রয়োজন দায়িত্বপ্রাপ্ত, অভিজ্ঞ ও কার্যকর প্রতিনিধি।
ওয়াশিংটনের সামনে তাই প্রশ্নটি কেবল কে রাষ্ট্রদূত হবেন, তা নয়। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি এমন একটি কূটনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে পারবে, যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করবে? রাষ্ট্রদূতের পদ খালি রাখা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয়তো সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও তার কূটনৈতিক দুর্বলতার সুবিধা নিতে পারবে।












