রাজশাহী নগরীর কেদুর মোড় এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি থেকে খালেদা খানম বেলী নামে ৭০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িটির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিহত বেলী ‘বেলী ভিলা’ নামের দোতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় একাই বসবাস করতেন। বাড়িটির নিচতলায় অন্য ভাড়াটিয়ারা থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মরদেহে আঘাতের চিহ্ন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক তিনজন
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারী জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িটির একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে দুই নারী ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাটির পরিস্থিতি ও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য, ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার থেকে খোঁজ ছিল না, দুর্গন্ধ পেয়ে খবর দেন প্রতিবেশীরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা খানম বেলী বিধবা ছিলেন এবং বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন। শনিবারের পর থেকে তাঁকে আর দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁরা খোঁজ নিতে যান। এ সময় বাড়ির আশপাশ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা।
প্রতিবেশীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, শনিবার থেকে রোববারের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তাঁদের সন্দেহ, ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যায়। তবে এটি প্রতিবেশীদের ধারণা; পুলিশি তদন্তে এখনো এর সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
চার সন্তান থাকেন চার জায়গায়
খালেদা খানম বেলীর চার সন্তান রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে, এক মেয়ে যুক্তরাজ্যে, আরেক মেয়ে চীনে এবং অন্য ছেলে ঢাকায় থাকেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
একাই বসবাস করতেন এমন একজন প্রবীণ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, সাম্প্রতিক সময়ে কেউ তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন কি না কিংবা ঘটনার আগে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত চলছে। সিআইডিও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের ফল এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।












