ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হওয়ার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা না দেওয়ায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রস্তাবিত নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাস আইন নিয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পেরেই সরকার সংসদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি বিলম্বিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জয়রাম রমেশ। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সর্বদলীয় আলোচনার দাবি উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন গত ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর ৬০ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করা হয়নি। এ দীর্ঘ বিরতিকে কেন্দ্র করেই সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জয়রাম রমেশ বলেন, সংসদের অধিবেশন মুলতবি হওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান অনেক আগেই আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে বর্ষাকালীন অধিবেশনের ক্ষেত্রে এই ব্যবধানের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২৮ দিন।
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, প্রস্তাবিত নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাস আইন নিয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার সংসদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি বিলম্বিত করছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত অংশে এ অভিযোগের পক্ষে সরকারের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়নি।
আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধ
ভারতের রাজনৈতিক আলোচনায় নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের কাঠামোর সম্পর্ক রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটেই সংসদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত না হওয়া নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ সামনে এসেছে।
কংগ্রেসের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনটি নিয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন অর্জনে সরকারের ব্যর্থতা সংসদীয় কার্যক্রমের সময়সূচিতে প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সর্বদলীয় আলোচনার দাবি
আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধের মধ্যে কংগ্রেস সর্বদলীয় সংলাপের দাবি জানিয়েছে। দলটির অবস্থান হলো, গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ও নির্বাচনী বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তবে ইউএনআইয়ের প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে সর্বদলীয় আলোচনার সম্ভাব্য সময়সূচি, সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। ফলে সংসদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নিয়ে বিরোধ এবং প্রস্তাবিত আইনটির ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত।












