ভারতের নির্বাচন কমিশনের নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম–৬-এর বৈধতা নিয়ে কোনো রায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আগের শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণকে নতুন ফরমের অনুমোদন হিসেবে উপস্থাপন না করার নির্দেশও দিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। এ-সংক্রান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের শুনানি আগামী ২৭ অক্টোবর হবে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা। আদালত জানায়, নতুন ফরমটি নিয়ে বিষয়টি সামনে আসায় এবার এর বৈধতা পরীক্ষা করা হবে।
আদালতের বক্তব্য: অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান—কোনোটিই নয়
নতুন ফরম–৬ নিয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে বেঞ্চ জানায়, আদালতের আগের পর্যবেক্ষণকে সাংবিধানিক বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফরমটির পরিবর্তিত সংস্করণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার কোনো সিদ্ধান্ত আদালত দেয়নি।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ব্যাখ্যা করেন, ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের অর্থ ছিল, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে আদালতের রায় দেওয়ার সময় পরিবর্তিত ফরমটি চালু ছিল না। এর অর্থ এই নয় যে সুপ্রিম কোর্ট নতুন ফরমটি অনুমোদন করেছে কিংবা বাতিল করেছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ২৭ অক্টোবর বিশেষ নিবিড় সংশোধনসংক্রান্ত অন্যান্য আবেদনের সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে। ওই দিন নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও বৃহত্তর আইনি চ্যালেঞ্জের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ফরমে নতুন ঘোষণাপত্র নিয়ে বিতর্ক
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের ফরম–৬-এর সঙ্গে যুক্ত করা একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র। এতে আবেদনকারীকে জানাতে হয়, তাঁর নিজের নাম অথবা তাঁর মা-বাবা কিংবা দাদা-দাদির নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে তৈরি ভোটার তালিকায় ছিল কি না।
নতুন শর্তটি চালু হওয়ার পর প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া তরুণদের পাশাপাশি আগে তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া কারও নাম আগের তালিকায় না থাকাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে, পুনরায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পারিবারিক সংযোগের তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ৫ অক্টোবর আদালতকে জানিয়েছিলেন, ফরম–৬-এ দুটি নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। আদালত তখন পরিবর্তনগুলোর অনুমোদনসংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠায় এবং জানায়, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা ও আইনি প্রশ্ন
গত ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফরম–৬-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় নির্ধারিত মূল ফরমটি অপরিবর্তিত রয়েছে; অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি কেবল বিশেষ সংশোধন কার্যক্রমের জন্য যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে আইনি বিতর্কের মূল প্রশ্ন হলো, বিধিমালায় সংশোধন না এনে অনলাইন ফরমে নতুন শর্ত যুক্ত করা যায় কি না। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্রীয় সরকার ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন করে। এসব বিধির সংশোধনের জন্য নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন শেষ হয়েছে—এমন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে অনলাইন ফরম থেকে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আবার মূল বিধিমালায় নির্ধারিত ফরম–৬ ব্যবহার করা হচ্ছে।
২৭ অক্টোবরের শুনানিতে আদালত পরিবর্তিত ফরমটির আইনি ভিত্তি, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা এবং নতুন শর্ত যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে কী অবস্থান নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।












