ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে জান্তার মন্তরের স্বীকৃতি বাতিল করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য শহরের তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। নতুন স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং শাহদারার সিবিডি ময়দান।
দিল্লি পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ আয়োজনের অধিকার বজায় রেখে জান্তার মন্তরের বিকল্প স্থান খুঁজে বের করতে একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পুরোনো নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলটির স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে।
তবে নতুন তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য বিস্তারিত ও সংশোধিত মানসম্মত কার্যপদ্ধতি পরে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় দিল্লি থেকে দূরে নতুন স্থান
নতুন তিনটি স্থানের মধ্যে রামলীলা ময়দানই জান্তার মন্তরের সবচেয়ে কাছাকাছি। স্থানটি জান্তার মন্তর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। বুরারি ময়দানের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার এবং শাহদারার সিবিডি ময়দান ১২ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।
দিল্লির কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় জান্তার মন্তর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনের পরিচিত কেন্দ্র ছিল। নতুন স্থানগুলো শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকায় বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ আয়োজনের জন্য এখন থেকে বিকল্প ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের জুন থেকে জান্তার মন্তর তরুণদের নেতৃত্বে একাধিক বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এসব আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল অভিজিৎ দীপকে প্রতিষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টি। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের একপর্যায়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মাস থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে জান্তার মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলোর ‘ভোট চুরি’ অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত ১০ মাসে বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তি ছিল, কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের অবগতিসহ বা সুপারিশ ছাড়াই নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ দমনে আটক, পুলিশের বক্তব্য
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর সপ্তাহান্তে দিল্লিতে ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
জান্তার মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, জান্তার মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এখন পুরো দেশই জান্তার মন্তরে পরিণত হবে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনের ভৌগোলিক কেন্দ্র বদলে গেলেও রাজনৈতিক ও নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।












