শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে তিন স্তরের ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। পূজার আগে, উৎসবের দিনগুলোতে, প্রতিমা বিসর্জনের সময় এবং পূজা শেষের পরের সময়টা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এক সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এ কথা জানান। তিনি বলেন, পূজাকেন্দ্রিক পুলিশের কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করছে পুলিশ। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধীর বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নজরদারিতে এবার একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) এই অ্যাপ দিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর দ্রুত জানানো যাবে। পুলিশ সদর দপ্তর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু থাকবে। থানাগুলো প্রতিটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা ও যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করছে। স্বেচ্ছাসেবকেরা পাবেন পরিচয়পত্র।
ঢাকার প্রতিটি মণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মণ্ডপের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা শরীরে ক্যামেরা পরে দায়িত্ব পালন করবেন। পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও প্রস্তুত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে বা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে পুলিশ।
পূজা কমিটিগুলোকে মণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো রাখতে, সিসিটিভি সচল রাখতে এবং জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলেছে পুলিশ। প্রতিটি মণ্ডপে দিনরাত স্বেচ্ছাসেবক রাখারও অনুরোধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল বাতি রাখার নির্দেশনাও আছে। পূজার স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সরকার এ বছর পূজার আনুষ্ঠানিক ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটি যোগ হয়ে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকছে সরকারি অফিস। ছুটি সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা থাকবে।
এবার পূজায় সরকারি কর্মচারীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। লম্বা ছুটির কারণে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়ও বাড়তে পারে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আইজিপি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের সুযোগ যেন কেউ না পায়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।












