দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৬৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া চারজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার।
অধিদপ্তরের হিসাবে, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৫ হাজার ৩৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। এক দিন আগে রোববার পর্যন্ত মোট মৃত্যু ছিল ৩০৩, আর ভর্তি রোগী ছিল ৯৯ হাজার ২৭৫ জন।
পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় অনেক খারাপ। ২০২৫ সালের একই সময় পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫৩ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ এ বছর ভর্তি রোগী প্রায় দ্বিগুণ। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ১৪৮ জন। অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে মৃত্যু হয় ৫৮ জনের। সোমবারের চার মৃত্যু যোগ করলে এ মাসে মৃত্যু দাঁড়াল ৬২ জনে।
গত কয়েক বছরের তুলনায় দেখলে, দেশে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৩ সালে। ২০২৪ সালে মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৃত্যু ছিল ৪১২ জন। এ বছর মৃত্যু এখনো সেই সংখ্যাগুলোর নিচে। তবে রোগী বাড়ার গতি গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বরেও সংক্রমণ চলতে থাকে, তাই সামনের কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরকে দেশে ডেঙ্গুর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু অক্টোবরের মাঝামাঝি এসেও প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর খবরও আসছে। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। মৃত্যুর বড় অংশই ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায়, যা রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত দেয়।
চিকিৎসকেরা সাধারণত ডেঙ্গুর জ্বরে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথানাশক না খাওয়ার পরামর্শ দেন। আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়া জরুরি। যাঁরা আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয়বার সংক্রমণে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই তাঁদের আরও সতর্ক থাকা দরকার।
জ্বর হলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। দেরিতে হাসপাতালে আসাকে আগেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সামনে দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটি। অনেকে এ সময় শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি যাবেন। বাসা ফাঁকা রাখার আগে ফুলের টব, বালতি, ফ্রিজের ট্রে ও ছাদে জমে থাকা পানি ফেলে দিয়ে যাওয়া ভালো। এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই ডিম পাড়ে। তাই ঘরের ভেতরের পানির পাত্রও ঢেকে রাখা দরকার।












