আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আলোচনা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে সোমবার শুরু হয়েছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা। এটি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সভা হচ্ছে ব্যাংককের কুইন সিরিকিত জাতীয় কনভেনশন সেন্টারে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দলে আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রতিবছর এই সভায় বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা অংশ নেন। বিশ্ব অর্থনীতি, ঋণ ও উন্নয়ন অর্থায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। ছোট ও মাঝারি অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এটি দাতাদের সঙ্গে সরাসরি দর-কষাকষির বড় সুযোগ।
সোমবার অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনে আরও বৈঠক হওয়ার কথা। তবে ঋণের অঙ্ক বা শর্তের বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি শুধু বলেন, আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি নিয়েও কাজ এগোচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি খাতে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, সেই কথাও সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বাড়ে। সেই চাপ সামলাতে বাড়তি অর্থায়ন দরকার বলে মনে করছে সরকার।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ এবার নিজের তৈরি সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে। এতে ব্যাংক খাতের সুশাসন, রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার কথা আছে। তাঁর ভাষায়, সংস্কার প্রশ্নে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে মোটা দাগে নীতিগত মিল হয়েছে। স্থিতিশীলতা ফেরানো, ব্যাংকে শৃঙ্খলা আনা, কর আদায় বাড়ানো আর কর্মসংস্থান তৈরি হলো অভিন্ন লক্ষ্য। তবে সংস্কারের মালিকানা থাকবে নির্বাচিত সরকারের হাতেই, বলেন তিনি। অর্থাৎ শুধু বাইরের শর্ত মেনে নয়, নিজের অগ্রাধিকার ঠিক করে এগোতে চায় সরকার।
আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন অর্থনীতি চাপে আছে। বিশ্বব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে এটি ১.২ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৬ শতাংশ থাকতে পারে বলে সংস্থাটির হিসাব। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পরে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। সেই কর্মসূচি মেয়াদ শেষের আগেই থেমে যায়। ফলে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্যও এই আলোচনার ফল গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের নতুন ঋণ ও অন্যান্য বাজেট সহায়তা এলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমতে পারে। জ্বালানি আমদানিতেও কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। আবার ঋণের শর্ত হিসেবে কর, ভর্তুকি বা বিনিময় হারে পরিবর্তন এলে তার প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। তাই ব্যাংককের বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে নজর থাকবে ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ ভোক্তা সবার। এক সপ্তাহের এই সভায় ঋণের অঙ্ক আর শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত বোঝাপড়া হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সভা শেষ হলে আলোচনার ফল কতটা এগোল, তা পরিষ্কার হবে।












