ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে জোটের নেতাদের এক বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের যুক্ত করার কথা জানানো হয়।
নির্বাচনী তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধী জোটের মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আদালতে আবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রাহুলের
মঙ্গলবার বিকেলে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে চা-চক্রের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা। বৈঠক শেষে রাহুল বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ এবং এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা তিনি প্রকাশ করেননি।
শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত বৈঠককে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, উপস্থিত নেতারা নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দিল্লির পাশাপাশি অন্যান্য স্থানেও চলবে বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, যাঁরা দায়ী, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আন্দোলনস্থলে আটক বিরোধী কর্মী
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের স্থান নিয়ে বিরোধের মধ্যেই ককটেল জনতা পার্টির (সিজেপি) সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাঁরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। দলটির দাবি, আটক নেতাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই আটককে ‘অপহরণ’ বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে সোমবার ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল ঘিরে একাধিক মামলা হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। বিক্ষোভের সময় নারী সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ব্যাখ্যা করতে দিল্লি পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
দিল্লিতে বিক্ষোভের নিয়মকানুন নির্ধারণ এবং যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অনুমতি নিয়ে পৃথক আবেদনও আদালতে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, দিল্লির বিক্ষোভসংক্রান্ত আবেদনগুলো ১৫ অক্টোবর শুনানির জন্য নেওয়া হবে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধ
বিরোধীদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী জোট।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে রাহুল গান্ধীকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের পর এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে; তাই কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য এই প্রক্রিয়াকে দায়ী করা যুক্তিসংগত নয়। গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যর্থতার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য দাবি করেছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তিন সদস্যের কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে নিয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী জোট আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।












