আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। এই কর্মসূচিতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়া হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে তা চূড়ান্ত করতে চায় সরকার। ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে কিছু শর্তও সামনে এসেছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি খাতে ভর্তুকি যৌক্তিক করার সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা চেয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের নিয়মিত মিশন ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে। তখনই আগের ঋণ কর্মসূচির জায়গায় নতুন কর্মসূচি নেওয়ার আলোচনা হয়।
সরকার এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ দেখাতে চাইছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গড় দামের বেশি দরে আর নতুন বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি হবে না। সারের দামে নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে তুলে দিয়ে কৃষকের হাতে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এসব উদ্যোগ আইএমএফের সংস্কার রূপরেখার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
আইএমএফের বাইরেও অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকার চীনের ঋণের বদলে বিনিয়োগের দিকে যেতে চায়। আমদানি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও বাড়তি সহায়তা চেয়েছেন তিনি, এ নিয়ে মার্কিন এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জাপানের কাছ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিশেষ স্বল্পসুদের ঋণ চাওয়ার পরিকল্পনাও আছে সরকারের।
আইএমএফের নতুন ঋণ এমন সময়ে আসছে, যখন সংস্থাটি নিজেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে ওঠার আশঙ্কাও আছে। ঋণ রিজার্ভ ও বাজেটে স্বস্তি দেবে, কিন্তু শর্ত মানতে গিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস বা সারের দামে প্রভাব পড়তে পারে। তাই আলোচনার ফল সরাসরি পৌঁছাবে গৃহস্থালির বিল আর কৃষকের খরচে।












