নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ চারজনের সবাই মারা গেছেন। সর্বশেষ মারা গেছেন ১৯ বছরের রনি। শুক্রবার সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালিও দগ্ধ হয়েছিল। দুটি পরিবারের এই চার সদস্য গত রোববার রাতের বিস্ফোরণের পর থেকে হাসপাতালে ছিলেন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণটি ঘটে। দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। প্রথম মারা যান ৩০ বছরের রোজিনা। বুধবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় মারা যান ৩৪ বছরের শরীফ। একই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মারা যান ২২ বছরের রিয়াদ। এই দুজনের শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাঁদের শ্বাসনালিও দগ্ধ ছিল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন (জরুরি বিভাগ) ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও চারজনের কাউকে বাঁচানো যায়নি। শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চারজনের তিনজনেরই শ্বাসনালি দগ্ধ ছিল। কাঁচপুরে গ্যাস বিস্ফোরণের এই ঘটনা আবারও বাসাবাড়িতে গ্যাস লিকের ঝুঁকি সামনে এনেছে। রাতে ঘুমের সময় বন্ধ ঘরে জমে থাকা গ্যাস টের পাওয়া কঠিন। তখন চুলা, বৈদ্যুতিক সুইচ বা আগুন জ্বালালেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ছোট একটি ফুটো থেকেও কয়েক ঘণ্টায় ঘরে বিপজ্জনক মাত্রায় গ্যাস জমতে পারে।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণের খবর প্রায়ই আসে। এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে কিছু সাধারণ সতর্কতা জরুরি। ঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে প্রথমে দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। তখন বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা, দেশলাই বা লাইটার জ্বালানো ঠিক নয়। ঘুমানোর আগে চুলার চাবি ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া দরকার। পুরোনো পাইপ, রাইজার ও রেগুলেটর নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। লিক সন্দেহ হলে দ্রুত গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জরুরি নম্বরে বা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিতে হবে।
চার মৃত্যুর পর এখন প্রশ্ন উঠছে, কাঁচপুরে গ্যাস বিস্ফোরণের উৎস কী ছিল এবং তা ঠেকানো যেত কি না। লিকটি সিলিন্ডার থেকে নাকি সরবরাহ লাইন থেকে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যু দেখিয়ে দিল, ঘরের ভেতরের ছোট অবহেলাও কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা আর সচেতনতাই এমন দুর্ঘটনা ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ উপায়।












