হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দ্বিতীয় অপারেটর হতে চার বিদেশি প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন, যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিনাটা। টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জাপানি কনসোর্টিয়াম এই তালিকা করেছে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যে প্রতিষ্ঠানই বাছাই হোক, তারা রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি কাজ করবে।
এতদিন বিমানবন্দরে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ছিল বিমানের একক নিয়ন্ত্রণে। নতুন অপারেটর এলে এয়ারলাইনসগুলো বিকল্প পাবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিং থাকবে শুধু বিমানের হাতে। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ ৯৮ শতাংশের বেশি শেষ হলেও ২২ মাস ধরে এটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। সরকার ১৬ ডিসেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করছে। শুরুতে দিনে দুটি ফ্লাইট আসবে ও দুটি যাবে।
মেনজিসের প্রস্তাবে আছে গ্রাউন্ড সাপোর্ট যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলি বলেছেন, তারা ১ হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, যার ৯৯ শতাংশ স্থানীয়। পরোক্ষ কাজ হবে আরও সাড়ে ৪ হাজার। দেশে একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি করার কথাও বলেছে তারা। চেলেবির গ্রুপ সিইও ডেভ উইলিয়াম ডর্নার জানিয়েছেন, তাদের বিনিয়োগ মেনজিসের চেয়ে অনেক বেশি হবে। তারা ১ হাজার থেকে দেড় হাজার স্থানীয় কর্মী নিতে চায় এবং বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি আনতে চায়। সুইসপোর্ট দেশীয় রিদম গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাব দিয়েছে। ডিনাটা ৩৫টি দেশের ১৭৪টি বিমানবন্দরে কাজ করে, তবে তাদের বিনিয়োগের অঙ্ক প্রকাশ হয়নি।
বেবিচক চাইছে, বিদেশি অপারেটর দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মালিকানায় সত্যিকারের অংশীদারত্বে যাক। শুধু স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বা সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়াকে যথেষ্ট মনে করছে না সংস্থাটি। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে খসড়া চুক্তিটি প্রায় ৪৫০ পৃষ্ঠার। এতে শুরুতে ১ হাজারের বেশি মন্তব্য ও সংশোধনী এসেছিল। এর মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫টি বড় বিষয় আলাদা করে আলোচনায় রাখা হয়েছে। কয়েকটির এখনো সমাধান হয়নি। লাগেজ পেতে দেরি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ পুরোনো। তাই নতুন অপারেটরের সেবার মান নিয়ে আগ্রহ বেশি। চেলেবি অবশ্য প্রথম বা শেষ ব্যাগ পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি সইয়ের ছয় মাসের মধ্যে নতুন অপারেটর মোট কাজের প্রায় ২৫ শতাংশ সামলাবে। পুরো দায়িত্ব বুঝে নিতে লাগবে প্রায় এক বছর। ততদিন বিমানই মূল কাজ চালিয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে দায়িত্ব হস্তান্তর হবে। তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীসেবার মান কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই বাছাই আর চুক্তির শর্তের ওপর।












