মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বেলতলায় ষষ্ঠীর আচার শুরু হয়। ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনির মধ্যে ভক্তরা দেবীকে অঞ্জলি দেন। প্রথম দিনে হয় বোধন, অর্থাৎ দেবীর আবাহন। এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। দুর্গাপূজা নিরাপত্তা নিয়ে এবার আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবার মহাসপ্তমী পালিত হবে দুই দিন ধরে, শনি ও রবিবার। সোমবার মহাঅষ্টমী আর মঙ্গলবার মহানবমী। বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। দুর্গাপূজা নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২ হাজার ৭২৭টি মণ্ডপ পাহারা দিচ্ছে। উপকূল ও নদী এলাকার ৬১৫টি মন্দির ও মণ্ডপে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন আছেন। ঢাকার ২৫৭টি মণ্ডপে বাড়তি ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ দায়িত্বে আছেন। সারা দেশে এসআরবির ছয় হাজারের বেশি সদস্য পূজার দায়িত্বে আছেন। প্রতিদিন মাঠে থাকছেন ২ হাজার ৪৫৭ জন।
এর মধ্যেই যশোরে উদ্ধার হয়েছে আটটি হাতে তৈরি বোমা বা ককটেল। শনিবার রাত একটার দিকে শহরের শংকরপুর বালির মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৬। গোপন খবর ছিল, একটি চক্র বোমা নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সামনে তল্লাশি চালিয়ে বোমাগুলো উদ্ধার করা হয়। এসআরবি-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ধারণা, পূজার সময় নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
গত কয়েক বছরে পূজার সময় কিছু জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুর আর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার দুর্গাপূজা নিরাপত্তায় বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ আর এসআরবিকে একসঙ্গে মাঠে নামানো হয়েছে। বিশেষ টহল, তল্লাশিচৌকি আর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পূজা উদযাপন পরিষদ মণ্ডপগুলোতে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখার অনুরোধ করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বড় মণ্ডপগুলোতে। এবার নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে রাতের সময়ে আর বিসর্জনের দিনে। বড় শহরের মণ্ডপে ক্যামেরা আর পুলিশ থাকলেও গ্রামের অনেক মণ্ডপ চলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের ভরসায়। যশোরের ঘটনা দেখিয়েছে, নাশকতার চেষ্টা হতে পারে যেকোনো জায়গায়। তাই প্রত্যন্ত এলাকার ছোট মণ্ডপেও সমান নজর দরকার। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে বা নিকটস্থ থানায় জানানো যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া কোনো খবর ছড়ালে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। দুর্গাপূজা নিরাপত্তা তাই কেবল বাহিনীর নয়, সবার দায়িত্ব।
দুর্গাপূজা এখন শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বাঙালির সবার উৎসব। ঢাকার পুরান ঢাকা, বনানী, রমনা কালীমন্দির থেকে শুরু করে জেলা শহরের মণ্ডপে সব ধর্মের মানুষ ভিড় করেন। যশোরের ঘটনা মনে করিয়ে দিল, উৎসবের আনন্দ রক্ষা করতে সতর্কতার বিকল্প নেই। আগামী পাঁচ দিন নির্বিঘ্নে কাটলে সেটাই হবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিসর্জনের দিন নদীঘাটে ভিড় সামলানোই হবে শেষ বড় পরীক্ষা।












