বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ২৮ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে। প্রধান কোচ থমাস ডুলি এই দল বেছে নিয়েছেন। দলে আছেন হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া ও ফরহান আলী ওয়াহিদের মতো পরিচিত মুখ। সঙ্গে আছে দুজন নতুন নাম, রোনান সুলিভান আর মাহি খান। এই দলের ওপর ভর করেই ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নামবে।
টুর্নামেন্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর। শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। সব ম্যাচ হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ এ-তে, সঙ্গে ভুটান আর শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ বি-তে আছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা থাকলেও কাজটা সহজ হবে না। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ কতদূর যেতে পারে, তা অনেকটা নির্ভর করবে এই দলের মানের ওপর। গ্রুপের হিসাবে বাংলাদেশের সামনে ভুটান আর শ্রীলঙ্কা। এই দুই দলের বিপক্ষে ভালো শুরু করতে পারলে পরের ধাপের পথ সহজ হয়। অন্য গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ থাকায় সেখানে লড়াই হবে বেশ জমজমাট। সমর্থকেরা তাই প্রতিটি ম্যাচ নিয়েই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ঘরের মাঠে প্রতিটি পয়েন্টই এই টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এই দলে অভিজ্ঞ জাতীয় দলের খেলোয়াড়, উদীয়মান তরুণ আর প্রবাসী ফুটবলারদের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। এই মিশ্রণ মাঠে কতটা কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। অভিজ্ঞদের শান্ত খেলা আর তরুণদের গতি একসঙ্গে মিলে গেলে দল ভালো কিছু করতে পারে। ডুলির সামনে তাই চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সমন্বয় তৈরি করা। নতুন দুই নামের মধ্যে রোনান সুলিভান যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ফুটবল খেলেন। এপ্রিলে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এবার প্রথমবারের মতো ডাক পেলেন জাতীয় দলে। মাহি খান খেলেন ইংল্যান্ডে। তিনিও এই প্রথম জাতীয় দলের ডাক পেয়েছেন। বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ বেশ বড়। এবারের দলেও সেই ধারা অব্যাহত।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টের পর এটিই দলের পরবর্তী বড় পরীক্ষা। এই ২৮ জনের বাইরেও দুজন গোলরক্ষককে অনুশীলন ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইসহাক আকন্দ ও মোহাম্মদ আসিফ। তাঁরা প্রাথমিক ২৮ জনের তালিকার অংশ নন।
দলের এই নির্বাচন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলবে, সেটাই স্বাভাবিক। কেউ নতুন মুখ দেখে খুশি, কেউ চান পরিচিত মুখের ওপরই ভরসা রাখতে। কোচের কাজ হলো সবার আগে দলের ভারসাম্য ঠিক রাখা। ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের ফিটনেস আর পারস্পরিক বোঝাপড়া দেখেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ভালো করতে চাইলে এই প্রস্তুতির সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক দল ঘোষণা হলেও এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। অনুশীলন ক্যাম্পের পর এই ২৮ জন থেকেই সাফের চূড়ান্ত দল বাছাই করা হবে। তখন কারা সুযোগ পান আর কারা বাদ পড়েন, তা নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ থাকবেই। ঢাকায় বসা এই আসরে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা দলের কাছ থেকে ভালো ফলাফলের আশা করছেন। আপাতত নজর কোচের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।












