এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি শনিবার, ২৪ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ফল প্রকাশের বিস্তারিত তথ্য আর পদ্ধতি নিয়ে কমিটি সোমবার, ২৬ অক্টোবর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেবে। ফলে এইচএসসি পরীক্ষার ফলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অপেক্ষা আর মাত্র চার দিনের। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ও অনিয়মিত, দুই ধরনের শিক্ষার্থীই আছেন। পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কিছু পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। পরে সেসব পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্থাৎ পরীক্ষার পুরো পর্ব শেষ করতে বোর্ডগুলোকে কিছুটা বাড়তি সময় লেগেছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের কাজ সমন্বয় করে। তাই একই দিনে সব বোর্ডের ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত এই কমিটির মাধ্যমেই আসে। সোমবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফল প্রকাশের নিয়ম পরিষ্কার হলে শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এইচএসসি পরীক্ষার ফল বড় একটি মোড়। স্কুল আর কলেজের পড়া শেষ করে তাঁরা এবার উচ্চশিক্ষার দিকে এগোন। কেউ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন, কেউ ভাবেন বিদেশে যাওয়ার কথা। কেউ আবার কারিগরি শিক্ষা বা কাজের পথ বেছে নেন। ফল হাতে পেলে এই সিদ্ধান্তগুলো অনেক পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই ফলের দিনটি তাঁদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরুর দিন।
এই পরীক্ষার পরিধিও বেশ বড়। সাধারণ ধারার পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি ধারার শিক্ষার্থীরাও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। দেশের নানা প্রান্তের গ্রাম আর শহরের লাখো পরিবার তাই এই ফলের দিকে তাকিয়ে আছে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি পরিবারের প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পাস করার গল্পও হতে পারে। সেই আশা নিয়েই তাঁরা দিন গুনছেন। ফলের পর শিক্ষার্থীদের সামনে কয়েকটি কাজ থাকে। প্রথমে নিজের নম্বরপত্র আর প্রশংসাপত্র সংগ্রহের কথা ভাবতে হয়। তারপর পছন্দের বিষয় আর প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করতে হয়। ভর্তির আবেদনের সময় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখলে ঝামেলা কমে। এসব প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখলে ফল প্রকাশের পর সময় নষ্ট হয় না। বড় ভাইবোন বা শিক্ষকের পরামর্শ নেওয়াও এ সময় কাজে আসে।
ফল প্রকাশের দিনে উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক। তবে ফল দেখার নিয়ম এখনো জানানো হয়নি। সেটি ২৬ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট হবে। তাই এর আগে অচেনা ওয়েবসাইট বা লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ঠিক হবে না। এইচএসসি পরীক্ষার ফল দেখতে শুধু বোর্ডের ঘোষিত মাধ্যমই ব্যবহার করা নিরাপদ। ফল নিয়ে ছড়ানো গুজবে কান না দেওয়াও জরুরি।
অভিভাবকদের জন্যও এই সময়টা সংবেদনশীল। ফল যেমনই হোক, সন্তানের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে বড় ভরসা। কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে হতাশ না হয়ে পরের ধাপের কথা ভাবতে পারলে পথ খুলে যায়। বোর্ডগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী ফল প্রকাশের সময় আর পদ্ধতি জানা যাবে সোমবার। ততদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই ভালো।












