ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ড. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজ তাদের সেমাগ্লুটাইডভিত্তিক ওষুধের সরবরাহ সংকট সামাল দিতে নতুন দুটি ব্র্যান্ড চালু করেছে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা পণ্যের ছবি ও বিপণনসামগ্রীতে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ওবেদা প্রো ও ওবেদা প্লাস নামে নতুন ব্র্যান্ড বাজারে এনেছে। মূল ওবেদা ইনজেকশনের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্র্যান্ড দুটি চালুর খবর প্রথম প্রকাশ করে রয়টার্স। ওজন কমানোর ওষুধের দ্রুত সম্প্রসারণশীল ভারতীয় বাজারে সেমাগ্লুটাইডের চাহিদা বাড়ছে। এই উপাদানটি ডেনমার্কের ওষুধ প্রস্তুতকারক নোভো নরডিস্কের ওজন কমানোর ওষুধ ওয়েগোভি এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ ওজেমপিকে ব্যবহৃত হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ড. রেড্ডিসের শেয়ারের দাম একপর্যায়ে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও দিন শেষে শেয়ারটির দর ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম ছিল।
সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট সুরক্ষা শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে ভারতে ওজেমপিকের জেনেরিক সংস্করণ ওবেদা চালু করে ড. রেড্ডিস। পরে কানাডাতেও ওষুধটি বাজারজাত করা হয়। এর ফলে কম দামে সেমাগ্লুটাইডভিত্তিক ওষুধ বাজারে আনতে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ড. রেড্ডিস জানায়, জুলাই মাসে ওবেদা উৎপাদনে সমস্যার মুখে পড়ার পর সরবরাহ সচল রাখতে উৎপাদন অংশীদারের কারখানায় উৎপাদন সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওবেদা প্রো ও ওবেদা প্লাস বাজারে পাওয়া যাবে। ডায়াবেটিসের চিকিৎসা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে ওষুধ দুটি ব্যবহার করা যাবে।
তবে নতুন ব্র্যান্ড দুটি মূল ওবেদার বিকল্প হিসেবে আনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সকে কয়েকজন ওষুধ পরিবেশক জানিয়েছেন, ড. রেড্ডিস সম্ভবত মূল ওবেদা বন্ধ করে নতুন দুটি ব্র্যান্ডের ওপর গুরুত্ব দেবে।
এক পরিবেশক বলেন, ওবেদা ইনজেকশনে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা জানিয়ে কোম্পানিটি তাদের কাছ থেকে মজুত পণ্য ফিরিয়ে নিয়েছিল। পরে ওবেদা প্রো সরবরাহের কথা জানানো হয়।
ড. রেড্ডিসের গ্লোবাল জেনেরিকস বিভাগের প্রধান নির্বাহী এম ভি রমনা শুক্রবার বলেন, সেমাগ্লুটাইডের বাজারে প্রবেশের সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছে পণ্য সরবরাহের দুটি উৎস ছিল—নিজস্ব উৎপাদন এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য।
এর আগে ড. রেড্ডিস রয়টার্সকে জানিয়েছিল, একাধিক সেমাগ্লুটাইড ব্র্যান্ড বাজারে থাকার অর্থ এই নয় যে একটি ব্র্যান্ডের পরিবর্তে অন্যটি চালু করা হচ্ছে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা কোম্পানির এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে, জুলাই মাসে কারিগরি মূল্যায়নের জন্য ওবেদা ইনজেকশনের মজুত ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ওষুধটির মুখে খাওয়ার সংস্করণ প্রত্যাহার করা হয়নি।
একই উপাদানে তৈরি জেনেরিক ওষুধের কিছু ব্যাচে অশুদ্ধি শনাক্ত হওয়ায় আগস্টে কানাডা থেকেও পণ্য ফিরিয়ে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। চলতি প্রান্তিকে কানাডার বাজারে ওষুধটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বাজারেও ওষুধটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ড. রেড্ডিস।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফার্মার্যাকের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে সেমাগ্লুটাইডভিত্তিক ওষুধের বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে, যা প্রায় ৮৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।
জুলাই মাসে ড. রেড্ডিস জানিয়েছিল, নভেম্বর পর্যন্ত ওবেদা ইনজেকশনের সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারের অংশীদারত্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে তখন বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছিলেন। তবে শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওষুধের অশুদ্ধি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং আগামী মাসে পুনরায় বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।
পণ্যের প্যাকেজিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূল ওবেদা ইনজেকশন তৈরি করত চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ানসোর্স স্পেশালটি ফার্মা। অন্যদিকে, রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সরবরাহ চালান অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে বাজারে আসতে শুরু করা ওবেদা প্রো ও ওবেদা প্লাস তৈরি করছে হেটেরো ল্যাবস। ওজেমপিক ও ওয়েগোভির মতো নতুন ব্র্যান্ড দুটিও বিভিন্ন মাত্রায় পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে রয়টার্সের পাঠানো অনুরোধে হেটেরো ল্যাবস ও ওয়ানসোর্স স্পেশালটি ফার্মা সাড়া দেয়নি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফার্মার্যাকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে ড. রেড্ডিসের জেনেরিক সেমাগ্লুটাইডের বিক্রি প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। একই সময়ে ভারতের বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক সান ফার্মার বিক্রি ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ইউনিট।












