যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৭ জনে। সোমবারের সর্বশেষ হিসাবের তুলনায় বুধবার নতুন করে ৩১ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
বুধবার, ২১ অক্টোবর প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটির ৪৩টি কাউন্টিতে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে ওয়াশিংটন কাউন্টিতে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এলাকার তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম-সম্পর্কিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৫১ জনে পৌঁছেছে। সোমবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ২৪৭। অর্থাৎ, সর্বশেষ হালনাগাদে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা চারজন বেড়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালে পেনসিলভানিয়ায় হাম-সম্পর্কিত কারণে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় অঙ্গরাজ্যটিতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৭ জনের মধ্যে মাত্র চারজন টিকা নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মোট আক্রান্তের এক শতাংশেরও কম ছিলেন টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এই পরিসংখ্যান হাম প্রতিরোধে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে আক্রান্তদের টিকাদানের অবস্থা সম্পর্কে এই তথ্যের ভিত্তিতে সব ধরনের ব্যক্তিগত ঝুঁকি বা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) পেনসিলভানিয়াকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত সপ্তাহে সংস্থাটি জানায়, প্রাদুর্ভাবের কারণ ও বিস্তার তদন্তে সহায়তার জন্য তারা অতিরিক্ত জনবল ও সহায়তা পাঠাবে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্র থেকে ছড়ানো ভাইরাসের মাধ্যমে এটি অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।












