রক্তের ক্যানসারের একটি সাধারণ ধরন নন-হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত নতুন রোগীদের চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছে ডেনমার্কের ওষুধ ও জীবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেনম্যাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক অ্যাবভি। প্রতিষ্ঠান দুটির যৌথভাবে তৈরি একটি ওষুধের সঙ্গে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিচালিত শেষ পর্যায়ের এক গবেষণায় রোগের অগ্রগতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৫১ শতাংশ কমেছে।
৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিম্ফোমা (ডিএলবিসিএল) রোগীদের ওপর এই সমন্বিত চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি নন-হজকিন লিম্ফোমার সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
গবেষণায় এপকরিটাম্যাব নামের ওষুধের সঙ্গে আর-সিএইচওপি চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তুলনামূলকভাবে অন্য একটি দলের রোগীদের শুধু আর-সিএইচওপি দেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত চিকিৎসার সঙ্গে এপকরিটাম্যাব যুক্ত করলে রোগের অগ্রগতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৫১ শতাংশ কমে।
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কাজে লাগায় নতুন ওষুধ
এপকরিটাম্যাব এমন একটি চিকিৎসা, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার টি-কোষকে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে সাহায্য করে। জেনম্যাব ও অ্যাবভি যৌথভাবে ওষুধটি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, আর-সিএইচওপি হলো ডিএলবিসিএল রোগীদের চিকিৎসায় বর্তমানে ব্যবহৃত প্রচলিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একাধিক ওষুধের সমন্বয়ে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রচলিত চিকিৎসার সঙ্গে নতুন ওষুধ যুক্ত করার ফলে রোগের অগ্রগতি ছাড়াই বেঁচে থাকার সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সময়কে বলা হয় ‘প্রগ্রেশন-ফ্রি সারভাইভাল’। অর্থাৎ, চিকিৎসা শুরুর পর রোগীর ক্যানসার কত দিন পর্যন্ত বাড়ে না বা খারাপের দিকে যায় না, তা দিয়ে এই সূচক পরিমাপ করা হয়।
প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, নতুন শনাক্ত হওয়া ডিএলবিসিএল রোগীদের প্রথম সারির চিকিৎসায় বিসুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবডির সমন্বয় ব্যবহার করে প্রগ্রেশন-ফ্রি সারভাইভালে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখানো এটিই প্রথম শেষ পর্যায়ের গবেষণা।
চিকিৎসার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষণায় সমন্বিত চিকিৎসাটির নিরাপত্তার ধরন এপকরিটাম্যাব ও আর-সিএইচওপি—দুটিরই আগে থেকে জানা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে এ তথ্যের অর্থ এই নয় যে চিকিৎসাটিতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেই।
বিনিয়োগ বিশ্লেষক এমিলি ফিল্ডের মতে, নতুন শনাক্ত হওয়া ডিএলবিসিএল রোগীদের চিকিৎসায় এপকরিটাম্যাবের কার্যকারিতার পক্ষে গবেষণার ফল শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। এই রোগীদের চিকিৎসার বাজারই ওষুধটির জন্য সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে আশাব্যঞ্জক ফল এলেও নতুন শনাক্ত হওয়া এবং আগে কোনো চিকিৎসা না পাওয়া ডিএলবিসিএল রোগীদের জন্য এপকরিটাম্যাব এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে এই রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসায় ওষুধটি ব্যবহারের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
গবেষণার ফল রক্তের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে কতটা বিস্তৃতভাবে এই চিকিৎসা ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী মূল্যায়ন, অনুমোদন এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্যের ওপর।












