বিরল কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ আল্টোমিরিসকে (Ultomiris) শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ইমিউনোগ্লোবুলিন এ নেফ্রোপ্যাথি বা আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি নামের এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগটি কিডনি বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে।
২১ অক্টোবর বুধবার অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানায়, এফডিএর ত্বরিত অনুমোদন প্রক্রিয়ার আওতায় ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুতর রোগের চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে আশাব্যঞ্জক ফল দেখানো ওষুধকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। তবে রোগীর দীর্ঘমেয়াদি উপকার নিশ্চিত করতে পরবর্তী পর্যায়ের গবেষণার ফল গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষায় প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন কমেছে
অ্যাস্ট্রাজেনেকার তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যায়ের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৪ সপ্তাহ ব্যবহারের পর আল্টোমিরিস গ্রহণকারীদের প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিনের পরিমাণ প্লাসিবো বা ওষুধবিহীন তুলনামূলক চিকিৎসা গ্রহণকারীদের তুলনায় ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিনের উপস্থিতি কিডনির ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ধরে রাখে। কিডনির ছাঁকনিপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে।
তবে প্রস্রাবে প্রোটিন কমে যাওয়ার এই ফলাফল থেকে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ওষুধটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি কতটা কমাবে।
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে
আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি এমন একটি রোগ, যেখানে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় কিডনির ক্ষতি হয়। আল্টোমিরিস শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার পরিপূরক ব্যবস্থা বা কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের সি৫ (C5) নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এই ব্যবস্থার অতিসক্রিয়তা কিডনিতে প্রদাহ ও ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার দাবি, আইজিএ নেফ্রোপ্যাথির চিকিৎসায় অনুমোদন পাওয়া প্রথম এবং একমাত্র সি৫ ইনহিবিটর হলো আল্টোমিরিস। এই শ্রেণির ওষুধ রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার নির্দিষ্ট একটি পথের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করে।
কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে বহু রোগী
কোম্পানিটির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখের বেশি মানুষ আইজিএ নেফ্রোপ্যাথিতে আক্রান্ত। যেসব রোগীর প্রস্রাবে প্রোটিনের মাত্রা বেশি অথবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে, তাঁদের প্রায় অর্ধেকের আগামী ১০ বছরের মধ্যে কিডনি বিকল হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
তবে রোগের অগ্রগতি সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, কিডনির কার্যক্ষমতা এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের মাত্রাসহ বিভিন্ন বিষয় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে।
চলবে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা
এফডিএর ত্বরিত অনুমোদন পাওয়ার পরও আল্টোমিরিসের ওপর চলমান গবেষণা অব্যাহত থাকবে। মোট ১০৬ সপ্তাহ ধরে চলার কথা রয়েছে এই পরীক্ষার। এর মাধ্যমে ওষুধটি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার গতি সত্যিই ধীর করতে পারে কি না, তা মূল্যায়ন করা হবে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে ওষুধটির নিয়মিত বা পূর্ণ অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, গবেষণায় ওষুধটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন কোনো উদ্বেগ শনাক্ত হয়নি। জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশেও ওষুধটির অনুমোদনের আবেদন পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী প্রশ্ন হলো, স্বল্পমেয়াদে প্রস্রাবে প্রোটিন কমানোর পাশাপাশি ওষুধটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়। চলমান গবেষণার ফল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।












