বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে আনুমানিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ দারিদ্র্য কমাতে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক দুর্ভোগ লাঘবে সহায়তা করবে।
বুধবার বিকেলে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিতুমীর। সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুস সালাম মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনীতির একটি সংকটপূর্ণ পরিবর্তনকাল অতিক্রম করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের দুর্বল পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ তাঁদের সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ঋণ নিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্ব বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিকৃত পরিসংখ্যান ছড়ানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
তিতুমীরের অভিযোগ, আগের সরকার সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধান এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর দাবি, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে এখন প্রায় ৪ হাজার কোটি নয়, বরং ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
বেকারত্ব মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তাঁদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাও জরুরি। এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিতুমীর বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ২০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে সরকার উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যার প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার কাজ করছে বলে জানান তিনি।












