বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মুম্বাই পুলিশের দাবি, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তরা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করার আগে বলিউডের আরও তিন তারকা—সালমান খান, আমির খান ও রণবীর কাপুরের বাড়িতে নজরদারি চালিয়েছিল। বুধবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা প্রথমে অন্য এক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তাঁর বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। পরে তুলনামূলক কম নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
হামলার আগে এক মাস মুম্বাইয়ে অবস্থান
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সি দুই অভিযুক্ত ফুল সিং ও রেহান আনসারি ১৮ অক্টোবরের হামলার আগে প্রায় এক মাস মুম্বাইয়ে অবস্থান করেছিল। এ সময় তারা দাদর এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থেকেছিল। হামলায় ব্যবহৃত বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল কেনাসহ তাদের মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় দুই লাখ রুপি।
এই সময়ের মধ্যে তারা সালমান খানের বান্দ্রার পশ্চিম অংশের বাড়ি, আমির খানের খার এলাকার বাসভবন এবং রণবীর কাপুরের বাড়িতে নজরদারি চালায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা আরও জানিয়েছে, গুলি চালানোর এক সপ্তাহ আগে, ১১ অক্টোবর তারা জুহুর সেই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল, যেখানে টাইগার শ্রফ নিয়মিত খেলতে যেতেন। সেদিন তাদের কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না বলে দাবি করেছে তারা।
হামলার আগে অস্ত্র নিয়ে অনুশীলন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল দুটি অভিযুক্তদের হাতে পৌঁছায়। এরপর তারা একটি বনাঞ্চলে গিয়ে অস্ত্র চালানোর অনুশীলন করে। তবে একটি পিস্তলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি আটকে যায়।
পরে তারা অস্ত্র দুটি নিজেদের থাকার হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে পিস্তলটি মেরামতের চেষ্টা করার সময় সেটি থেকে দুর্ঘটনাবশত গুলি বেরিয়ে যায় বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছে। তবে তাদের এই বক্তব্যের সত্যতা পুলিশ এখনো যাচাই করেনি।
১৮ অক্টোবর জুহুতে টাইগার শ্রফকে ঘিরে গুলির ঘটনার পর দুই অভিযুক্ত ও তাদের সহযোগী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন রামু মাহতোকে নয়াদিল্লিগামী একটি ট্রেন থেকে রাজস্থানের কোটায় আটক করা হয়। বুধবার তাদের মুম্বাইয়ে আনা হয়। আদালত তাদের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তকারীরা এখনো হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এবং অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেননি। গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ এবং গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
অস্ত্র সরবরাহ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আরও গ্রেপ্তার
এই ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ এবং অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবার আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ২১ বছর বয়সি কুনাল সঞ্জয়, ১৯ বছর বয়সি সুমিত সোরালিয়া এবং ২৩ বছর বয়সি রাধা ভার্মা ও বাবিতা রাও। দিল্লি ও হরিয়ানার সোনিপত থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর বুধবার সোনিপত থেকে সমীর, যতীন ও অঙ্কিত নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, সমীর এই হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ১৮ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অনিল পণ্ডিতের ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যতীন কুনালের সঙ্গে অমৃতসরে গিয়েছিল। সেখানে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা পিস্তল দুটি সংগ্রহ করা হয়। পরে রাধা ও বাবিতা অস্ত্রগুলো মুম্বাইয়ে নিয়ে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ।
যতীন হামলাকারীদের সঙ্গে মুম্বাইয়েও গিয়েছিল। সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা এবং অর্থ দেওয়ার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে অভিযুক্তদের যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যবস্থা করত অঙ্কিত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
সমীর, যতীন ও অঙ্কিতকে মুম্বাইয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁদের সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল।
তদন্তকারীরা এখন অস্ত্রের উৎস, হামলার পেছনের পরিকল্পনা এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।












