চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা মালিকানার একটি কারখানায় জিপার ও প্লাস্টিকের বোতাম উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম এসবিএস জিপার বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। গতকাল মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা এ তথ্য জানিয়েছে। মিরসরাইয়ে চীনা জিপার কারখানা চালু হওয়া পোশাক খাতের জন্যও ভালো খবর।
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এখানে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে বিনিয়োগ হয়ে গেছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। কারখানাটি অঞ্চলের ছয়টি শিল্প প্লটজুড়ে গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল বেপজার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ও জমি ইজারা চুক্তি হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শেন ওয়েইফাং তখন কোম্পানির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির প্রায় আড়াই বছরের মাথায় কারখানাটি উৎপাদনে এল। সেখানে বছরে ২৭ কোটি ১০ লাখ পিস জিপার তৈরির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। সেই হিসাবে মাসে গড়ে ২ কোটির বেশি পিস জিপার তৈরির সক্ষমতা থাকবে। ধাতব, নাইলন ও প্লাস্টিকের জিপারের পাশাপাশি এখানে স্লাইডার, চেইন, টেপ, প্লাস্টিকের বোতাম, বোতামের যন্ত্রাংশ ও ছাঁচ তৈরি হবে। জামা, প্যান্ট, জ্যাকেট, ব্যাগ ও জুতায় এসব সরঞ্জাম লাগে।
কর্মসংস্থানের দিক থেকেও কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেখানে ১৪০ জন বাংলাদেশি কাজ করছেন। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হলে ২ হাজার ৬৩ জন বাংলাদেশির কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে বেপজা। মিরসরাই ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি স্থানীয় চাকরির নতুন পথ খুলতে পারে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিদেশি ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহবুব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানান।
পোশাকশিল্পের জন্য এই খবরের তাৎপর্য আলাদা। পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প বলতে বোঝায় মূল পণ্যের কাঁচামাল ও সরঞ্জাম দেশেই তৈরি করা। দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো জিপার ও বোতামের বড় ক্রেতা। এসব সরঞ্জাম দেশের ভেতরে তৈরি হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে, সময়ও বাঁচে। বেপজা বলছে, মিরসরাইয়ে চীনা জিপার কারখানা পোশাক খাতের পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প বা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ জোরদারে ভূমিকা রাখবে। মানসম্মত সরঞ্জাম কাছেই পাওয়া গেলে রপ্তানিকারকদের উৎপাদন খরচ আর সময় দুটোই কমতে পারে। বিদেশি ক্রেতারা এখন দ্রুত সময়ে পণ্য চান। তাই সরঞ্জামের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির অপেক্ষা কমলে কারখানাগুলো সময়মতো চালান পাঠাতে পারে।
অঞ্চলটির অবস্থান চট্টগ্রাম শহরের উত্তরে মিরসরাই উপজেলায়। বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট শিল্প প্লট ২৭৯টি। এর মধ্যে ২৬৩টি প্লট এরই মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন ১৪টি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদনে আছে। আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠান কারখানা ভবন নির্মাণ করছে। মিরসরাইয়ে চীনা জিপার কারখানা চালুর মধ্য দিয়ে অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগের তালিকা আরও লম্বা হলো। বেপজা আশা করছে, এসব প্রতিষ্ঠানও শিগগির উৎপাদনে যাবে। মিরসরাইয়ে চীনা জিপার কারখানার মতো আরও বিদেশি বিনিয়োগ এলে চট্টগ্রামের এই অঞ্চলে কাজের সুযোগ আরও বাড়বে।












