দেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচ এক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। মানুষ কেনাকাটা আর বিল পরিশোধে আগের চেয়ে বেশি কার্ড ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে এই অঙ্ক ছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। তবে জুলাইয়ের তুলনায় খরচ কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ে ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছিল ৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে খরচ কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
কার্ডধারীরা সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। আগস্টে সেখানে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা, যা মোট খরচের প্রায় ৪৮ শতাংশ। খুচরা দোকানে খরচ হয়েছে ৫১৮ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবার বিল দিতে গেছে ৪৪২ কোটি টাকা। ওষুধের দোকানে খরচ হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। মোট খরচের ৯৩ শতাংশের বেশি গেছে পণ্য ও সেবা কেনায়। নগদ টাকা তোলায় গেছে সাড়ে ৬ শতাংশের মতো।
দেশের বাইরেও কার্ডে খরচ কম নয়। আগস্টে বাংলাদেশিরা দেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডে বিদেশে খরচ করেছেন ৯৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি আর প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা। বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে, প্রায় ১৭ শতাংশ। এরপর আছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুর। বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে এক মাসে লেনদেন হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজারবারের বেশি। চিকিৎসা, পড়াশোনা, ভ্রমণ আর কেনাকাটায় এসব দেশে বাংলাদেশিদের যাতায়াত বেশি। অন্যদিকে বিদেশি কার্ডধারীরা আগস্টে বাংলাদেশে খরচ করেছেন ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশিরা বিদেশে যা খরচ করছেন, তা বিদেশিদের দেশে খরচের প্রায় চার গুণ। তবে বিদেশিদের খরচও এক বছরে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে ৬ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে বিদেশি কার্ডের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, প্রায় ৩৫ শতাংশ। নগদ টাকা তোলায় গেছে প্রায় ২৪ শতাংশ, যাতায়াতে প্রায় ১৩ শতাংশ। এসব কার্ডের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে ইস্যু করা।
গত পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সব ধরনের কার্ড ছিল ২ কোটি ৭০ লাখের মতো। চলতি বছরের আগস্টে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২৯ লাখে। এর মধ্যে ডেবিট কার্ড ৪ কোটির বেশি, প্রিপেইড কার্ড প্রায় ৯৩ লাখ আর ক্রেডিট কার্ড ২৮ লাখের মতো। পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রিপেইড কার্ড, প্রায় ৮০৩ শতাংশ। আগস্টে সব কার্ডে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই অঙ্ক ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।
ক্রেডিট কার্ডে খরচ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে কার্ডধারীদের দেনাও। আগস্ট শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ড সীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কার্ডধারীদের কাছে পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। তাই কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য সময়মতো বিল শোধ করা জরুরি। দেরি হলে সুদ আর জরিমানায় ক্রেডিট কার্ডে খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে।












