আজ বুধবার বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শোভাযাত্রা আর বিসর্জনের আয়োজন। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে এবারের উৎসব শুরু হয়েছিল। পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও পুলিশের হিসাবে, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা হয়েছে। ষষ্ঠীর বোধনের পর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা শেষে আজ এল বিদায়ের দিন। দশমী শব্দের সঙ্গে বিজয় যুক্ত হয়েছে অশুভের ওপর শুভের জয়ের বিশ্বাস থেকে। ভক্তরা মনে করেন, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করে এই দিনে বিজয়ী হয়েছিলেন।
সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দশমীর পূজা শেষ হয়। এরপর পুরোহিতরা দর্পণ বিসর্জনের আচার পালন করেন। এই আচারে জলভরা পাত্রে রাখা আয়নায় দেবীর প্রতিবিম্ব দেখে প্রতীকী বিদায় জানানো হয়। এর পর থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বাজতে থাকে। তারপর শুরু হয় দেবী বরণ। বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় জানান। এরপর তাঁরা একে অন্যের কপালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। অবিবাহিত নারী আর অন্য ভক্তরাও এতে যোগ দেন। প্রচলিত বিশ্বাসে সিঁদুর খেলা সংসারের মঙ্গল আর স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার প্রতীক। তবে এখন এটি অনেকের কাছে বন্ধুত্ব আর মিলনেরও উৎসব। নাচ, গান আর মিষ্টিমুখে মণ্ডপে তৈরি হয় আনন্দ আর বিদায়ের মিশ্র আবহ। ভক্তদের বিশ্বাস, বিসর্জনের পর দেবী উমা স্বামীর ঘর কৈলাসে ফিরে যান।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সন্ধ্যার আগেই সব প্রতিমা বিসর্জন শেষ করতে আয়োজকদের নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সুবিধামতো সময়ে শোভাযাত্রা নিয়ে বিসর্জনে যাচ্ছেন ভক্তরা। রাজধানীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকা থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা নগরীর কয়েকটি সড়ক ঘুরে সদরঘাটের দিকে যায়। সেখানে বুড়িগঙ্গার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পুরান ঢাকার এই শোভাযাত্রা প্রতিবছর রাজধানীর বিজয়া দশমীর অন্যতম বড় আয়োজন। প্রতিমার সঙ্গে ঢাক বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে ভক্তরা দেবীকে শেষ বিদায় জানান। দেশের অন্য জেলাগুলোতেও কাছের নদী ও জলাশয়ে চলছে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন।
এবারের পূজায় সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়িয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিনের ছুটি চলছে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেল দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন শেষ হলেও উৎসবের রেশ এখনই ফুরোচ্ছে না। বিসর্জন শেষে ঘরে ফিরে ভক্তরা একে অন্যকে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়, বাড়িতে বাড়িতে চলে মিষ্টিমুখ। আগামী কয়েক দিন আত্মীয় আর প্রতিবেশীদের বাড়িতে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় চলবে। নারকেলের নাড়ু, মোয়া আর ঘরে বানানো মিষ্টি দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন এই সময়ের পুরোনো রীতি। ঢাকের শব্দ থেমে গেলেও শুরু হয় নতুন অপেক্ষা, আবার এক বছর পর দেবীর আগমনের।












