যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি ও সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ—দুটিই চলতি বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী জন হিলির প্রথম বাজেট ঘোষণার আগে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৫ শতাংশ হয়েছে। একই মাসে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে।
বুধবার প্রকাশিত দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.১ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকেরা মূল্যস্ফীতির হার ৩.৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত হার তাঁদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এক মাসে সরকারি ঋণ বেড়েছে ৭.২ বিলিয়ন পাউন্ড
মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টে সরকার ১৭.৩ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নিয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ড। অর্থাৎ এক মাসে সরকারি ঋণ নেওয়া বেড়েছে ৭.২ বিলিয়ন পাউন্ড।
চলতি বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ঋণ—দুই ক্ষেত্রেই এটি সর্বোচ্চ পর্যায়। এই পরিস্থিতি সরকারের আর্থিক নীতিনির্ধারণকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বাজেটের আগে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
আগামী ২৮ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী জন হিলি তাঁর প্রথম বাজেট ঘোষণা করবেন। তার ঠিক এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান বাজেট প্রণয়নের কঠিন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্য সরকারের আর্থিক নীতিতে ব্যয় ও রাজস্বের ব্যবধান সামাল দেওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার এই সীমাবদ্ধতা আসন্ন বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যাংক খাতে কর বাড়ানোর সম্ভাবনা
আসন্ন বাজেটে ব্যাংকগুলোর ওপর কর বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা করের সম্ভাব্য হার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি এবং সরকারি ঋণের দ্রুত ঊর্ধ্বগতি—এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট ঘোষণা করতে হবে। নতুন পরিসংখ্যান যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ এবং সরকারের সামনে থাকা আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও স্পষ্ট করেছে।












