প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে আসার পথ আবার খুলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসি। রোববার নতুন সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালা জারি করা হয়েছে। এত দিন এই সুযোগ কার্যত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মধ্যেই সীমিত ছিল। নতুন নিয়মে বড় বেসরকারি কোম্পানিও সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। তবে এ জন্য কঠোর কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। কোন কোম্পানি এই সুযোগ পাবে, দাম কীভাবে ঠিক হবে আর কে কত শেয়ার কিনতে পারবে, সব বিষয়েই বিধিমালায় স্পষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাবে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার নিট সম্পদ দেখাতে হবে। অন্য বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে বছরে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন বা টার্নওভার থাকতে হবে। কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে থাকতে হবে। সরাসরি তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানির পরিশোধিত শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ বিক্রির জন্য ছাড়তে হবে। এর বাইরে পুরোপুরি বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মালিকানার কোম্পানি এবং বিদেশি মালিকানার কোম্পানিও এই সুযোগ পাবে। ফলে শুধু বড় ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানই এই পথে আসতে পারবে।
দাম নির্ধারণেও নতুন নিয়ম এসেছে। শেয়ারের সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত দাম রেফারেন্স দামের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কম রাখতে হবে। ধরা যাক, কোনো শেয়ারের রেফারেন্স দাম ১০০ টাকা। তাহলে সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত দাম হবে ৭৫ টাকা বা তার নিচে। এতে শুরুতেই অতিমূল্যায়িত দামে শেয়ার বিক্রির ঝুঁকি কমবে। আবার প্রস্তাবিত শেয়ারের ১ শতাংশের বেশি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিনতে পারবে না। এতে অল্প কয়েকজনের হাতে শেয়ার জমে যাওয়ার সুযোগ কমবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ নেওয়ার সুযোগও বাড়বে। দামের এই ছাড় আর কেনার সীমা মিলিয়ে নতুন শেয়ারে হুড়োহুড়ি কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এই নিয়মগুলো জেনে রাখা জরুরি।
সরাসরি তালিকাভুক্তি দেশের বাজারে নতুন নয়। ২০০৬ সালে এই পদ্ধতি চালুর পর ডেসকো, পাওয়ার গ্রিড, যমুনা অয়েল, তিতাস গ্যাস, এসিআই ফর্মুলেশনস ও নাভানা সিএনজির মতো কোম্পানি এভাবে বাজারে এসেছে। পরে সরকারি সিদ্ধান্তে বেসরকারি কোম্পানির জন্য এই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পেত। দীর্ঘ বিরতির পর এখন নতুন সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালা দিয়ে আবার সেই দরজা খোলা হলো। এবার দাম ও কেনার সীমা আগেভাগেই বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে শুরুর দিনগুলোতে বাজার স্থিতিশীল থাকে।
দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও বড় কোম্পানির সংখ্যা এখনো কম। আইপিও প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হওয়ায় অনেক বড় কোম্পানি বাজারে আসতে আগ্রহ দেখায় না। সরাসরি তালিকাভুক্তি সেই কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলক সহজ পথ হতে পারে। বিনিয়োগকারীরাও তখন বেশি ভালো শেয়ার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে নতুন সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালার সুফল নির্ভর করবে কত দ্রুত মানসম্পন্ন কোম্পানি এই পথে আসে তার ওপর। শুরুর দিনগুলোতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি কতটা কড়া থাকে, সেটিও বাজারের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।












