শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে এখন যাত্রীদের সময় লাগছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। বিমানবন্দরে লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং চালুর পর এই উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি সদ্য বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রীরা মন্ত্রীকে জানান, তাঁরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই নিজেদের লাগেজ হাতে পেয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল প্রায় দুই মাস আগে। এখন তার ফল চোখে পড়ছে। এই ব্যবস্থায় বেল্টে লাগেজ আসার প্রক্রিয়া সরাসরি নজরে রাখা হচ্ছে। ফলে কোথাও দেরি হলে তা দ্রুত ধরা পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যাত্রীরা নতুন ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁরা চান, সেবার এই মান যেন সামনের দিনগুলোতেও ধরে রাখা হয়। মন্ত্রী বলেন, এই মান ধরে রাখা এবং বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ নতুন নয়। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরেন এবং বিদেশে যান। লম্বা যাত্রার পর ক্লান্ত শরীরে বেল্টের সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সঙ্গে থাকে পরিবারের জন্য আনা উপহার আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তাই লাগেজ পাওয়ার সময় কমে আসা প্রবাসী যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এমন উদ্যোগ চলবে। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের রিয়াদগামী যাত্রীদের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রিয়াদে ফ্লাইট চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে এই রুটে আবার ফ্লাইট চালু হবে। এর মধ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কিছু যাত্রীকে দাম্মাম ও মদিনা রুটে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সৌদি আরবে কাজ করা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির জন্য এই বিকল্প পথ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ছুটি শেষ, কাজে ফেরার তাড়া আছে। যাঁদের রিয়াদের টিকিট আছে, তাঁদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়াই ভালো।
লাগেজ দ্রুত পাওয়ার সুবিধা শুধু সময় বাঁচায় না। এতে বিমানবন্দরে ভিড়ও কমে। যাত্রীরা দ্রুত বের হতে পারলে বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের ভোগান্তিও কমে। আগমনী এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরে। লাগেজ হারানো বা দেরিতে পাওয়ার অভিযোগও কমে আসার আশা তৈরি হয়। বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছে বিমানবন্দরই দেশের প্রথম অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা ভালো হলে দেশের ভাবমূর্তিও ভালো হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ দ্রুত পাওয়ার এই চিত্র কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। উৎসবের মৌসুমে বা একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট নামলে বেল্টে চাপ বাড়ে। তখনো ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ দেওয়া গেলে যাত্রীদের আস্থা আরও বাড়বে। দেশে ফেরা প্রবাসী ও অন্য যাত্রীরা তাই প্রতিটি ফ্লাইটে এই সেবার ধারাবাহিকতা দেখতে চান। মন্ত্রীর ভাষায়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।












