ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভকে কেবল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা জনঅসন্তোষের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য উপেক্ষিত থেকে যাবে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, অভিবাসন, সাংস্কৃতিক পরিচয়, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা—সব মিলিয়ে পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশে যে অস্থিরতা বাড়ছে, প্যারিসের ঘটনাপ্রবাহ তারই একটি বিপজ্জনক প্রতিফলন। প্রশ্ন হলো, এই অসন্তোষ কি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতরে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে, নাকি এমন এক সংঘাতের পথ তৈরি করছে, যা শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দিতে পারে?
অক্টোবরের ১৮ ও ১৯ তারিখের সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার প্রতিবাদে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামে। প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ পরে সহিংসতা, লুটপাট ও সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় রূপ নেয়। প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়। আহত হন ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মী।
ফ্রান্সে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনাকে শুধু প্রচলিত বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন। কারণ, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, পরিচয়ভিত্তিক বিরোধ এবং ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়া একই ধরনের অসন্তোষ।
অর্থনৈতিক ক্ষোভের আড়ালে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য এমন অভিবাসীদের দায়ী করেছেন, যাঁরা স্থানীয় সমাজের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেননি বলে তাঁদের অভিযোগ। অন্যদিকে ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। নৈরাজ্যবাদী ও সংঘাতপ্রবণ কর্মীদের নিয়ে গঠিত ব্ল্যাক ব্লক নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সদস্যদেরও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক দায়ী করেছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আলজেরিয়ার ফুটবল দলের জার্সি পরা তরুণ অভিবাসীদের উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে।

তবে এসব ব্যাখ্যার কোনো একটিকে পুরো ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে বাস্তবতা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বরং এখানে বিভিন্ন ধরনের অসন্তোষ ও রাজনৈতিক লক্ষ্য এক জায়গায় মিলেছে। বামপন্থী বিপ্লবী গোষ্ঠী, নৈরাজ্যবাদী, ইসলামপন্থী সংগঠন এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু অংশের মধ্যে যে সহযোগিতা গড়ে উঠেছে, সমালোচকেরা সেটিকে ‘লাল-সবুজ জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই ধারণায় ‘লাল’ বলতে বামপন্থী রাজনীতি এবং ‘সবুজ’ বলতে ইসলামপন্থী শক্তিকে বোঝানো হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদ নিঃসন্দেহে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও মানবিক বিষয়। কিন্তু ফিলিপসের যুক্তি হলো, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই ইস্যুকে পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরোধিতা, অভিবাসন বিতর্ক এবং পশ্চিমা রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৃহত্তর কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ফলে একটি নির্দিষ্ট সংকটকে ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন নানা অসন্তোষের সম্মিলিত মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে কোথাও প্রকৃত সামাজিক ক্ষোভ রয়েছে, কোথাও রয়েছে সংগঠিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে না পারলে আন্দোলনের প্রকৃতি ও সম্ভাব্য পরিণতি মূল্যায়ন করা কঠিন।
ফ্রান্সের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা
সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের পাশাপাশি বেলজিয়াম, ইতালি, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াতেও অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়। মিলানে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ব্যারিকেডে আগুন দেয়। ব্রাসেলসের সহিংসতাকে বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিন সমাজকে অস্থিতিশীল করার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
ব্রিটেনেও শিক্ষার্থীদের ২০ নভেম্বর শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে এসে ইউরোপজুড়ে ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাদের বিরোধিতা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, আবাসন সমস্যা, বেকারত্ব এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কথিত গণহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদ। বিভিন্ন ইস্যুকে একত্র করে এমন আন্দোলনকে কেউ কেউ ‘সর্বব্যাপী আন্দোলন’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ভিন্ন ভিন্ন দাবি একই রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে যুক্ত হচ্ছে। বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবাদ, আবাসন সংকটের সমাধানের দাবি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বিরোধিতা—প্রতিটি বিষয়েই আলাদা নীতি ও সমাধানের প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো যখন একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সার্বিক প্রত্যাখ্যানের ভাষায় প্রকাশ পায়, তখন প্রতিবাদ ও ব্যবস্থাবিরোধী আন্দোলনের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
ফক্স নিউজের চলতি মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের এক মাসব্যাপী ‘শিক্ষার্থী’ বিক্ষোভে যুক্ত ৫০টি গোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র ১৫টি ছিল শিক্ষার্থীদের সংগঠন। বাকি ৩৫টির মধ্যে শ্রমিক ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক সংগঠন এবং ফিলিস্তিনপন্থী একটি সংগঠন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে সব আন্দোলনকারীকে একই উদ্দেশ্যের অংশ বলা যায় না। তবে এটি দেখায়, শিক্ষার্থীদের নামে পরিচিত আন্দোলনের পরিসরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকতে পারে।
রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও পরিচয়ের সংকট
রাজনৈতিক আন্দোলনের বিস্তার বুঝতে হলে পশ্চিমা সমাজের ভেতরের সমস্যাগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়, স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। একই সময়ে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ধর্মীয় উগ্রবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
সরকারগুলো একদিকে কল্যাণমূলক ব্যয় বাড়ানোর চাপের মুখে, অন্যদিকে নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। যখন মানুষ মনে করে যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান দিতে পারছেন না, তখন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা কমে যায়। এই শূন্যস্থান কাজে লাগাতে পারে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো।
এখানে জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ ‘ক্রেওলিজেশন’ ধারণার মাধ্যমে নতুন ফরাসি সমাজ গঠনের কথা বলেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, বিভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এমন এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে, যা কোনো একক সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। ফিলিপস এই ধারণাকে ফরাসি ঐতিহাসিক পরিচয় বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন।
তবে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও জাতীয় পরিচয়কে অবধারিতভাবে পরস্পরের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মূল প্রশ্ন হলো, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে অভিন্ন নাগরিকত্ব, আইনের সমান প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রের প্রতি পারস্পরিক দায়বদ্ধতা কীভাবে বজায় থাকবে। কোনো সমাজ যদি এই প্রশ্নগুলোর গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিচয় নিয়ে বিরোধ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে।

গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হারানোর বিপদ
পশ্চিমা গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কেবল রাস্তায় সহিংসতা নয়; বরং নাগরিকদের একটি অংশের মধ্যে এই বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়া যে প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কথা শোনে এবং ন্যায়সংগতভাবে কাজ করে। মানুষ যদি মনে করে আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয় না, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের মতামতের মূল্য নেই এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে উন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
একই সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী ও অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার বিস্তারও এই সংকটকে গভীর করতে পারে। একদিকে রাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ, অন্যদিকে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ—দুই প্রবণতাই সমাজকে আরও মেরুকৃত করে তুলতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নিলে নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হবে; আবার আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়বে।
কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড বেটজ ২০২৩ সাল থেকেই পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাঁর বিশ্লেষণে সাংস্কৃতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, মূলধারার রাজনীতির প্রতি আস্থার পতন এবং বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার কৌশল—সব মিলিয়ে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর পূর্বাভাসের প্রথম সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কথা উল্লেখ করেছেন।
এ ধরনের পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দাঙ্গা মানেই গৃহযুদ্ধ নয়, আর বিভিন্ন দেশে একই সময়ে বিক্ষোভ হওয়া মানেই একক কেন্দ্র থেকে পরিচালিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়। তবে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়, অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সহিংস গোষ্ঠীগুলো ক্রমে বেশি প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

পশ্চিমা গণতন্ত্রের সামনে তাই দ্বিমুখী দায়িত্ব। সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, একই সঙ্গে মানুষের বাস্তব অভিযোগেরও সমাধান করতে হবে। অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে খোলামেলা বিতর্কের সুযোগ সংকুচিত করলে উগ্রপন্থীরা আরও সমর্থন পাওয়ার সুযোগ পাবে। আবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা, লুটপাট কিংবা আইন অমান্যকে প্রশ্রয় দিলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ক্ষয়ে যাবে।
প্যারিসের ঘটনাপ্রবাহ পশ্চিমা সভ্যতার অবশ্যম্ভাবী পতনের প্রমাণ নয়। কিন্তু এটি এমন এক সংকটের সতর্কসংকেত, যেখানে অর্থনৈতিক হতাশা, সাংস্কৃতিক বিরোধ ও রাজনৈতিক অবিশ্বাস পরস্পরকে শক্তিশালী করছে। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু পুলিশের শক্তি কিংবা কঠোর বক্তব্য যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন কার্যকর শাসন, সমান আইনি সুরক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি নাগরিকদের আস্থা পুনর্গঠন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ ও সহিংসতার ঘটনাগুলো আরও গভীর সামাজিক সংঘাতের পথ তৈরি করতে পারে।












