পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের মূল ভিত্তি ছিল সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নৈতিক নেতৃত্বের দাবি। এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয় ওয়াশিংটনকে শুধু সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাই দেয়নি, বরং মিত্রদের ওপর প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নিয়ম নির্ধারণেও সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই শক্তির ভিত্তিগুলো ক্রমেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন আধিপত্যের দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখানে মূল প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আধুনিক অস্ত্রের বিপুল ভান্ডার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক, শিল্পগত ও রাজনৈতিক সক্ষমতা কতটা রয়েছে। একই সঙ্গে ডলারের ওপর আন্তর্জাতিক নির্ভরতা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কত দিন দেশটির বৈশ্বিক নেতৃত্বকে সমর্থন জোগাতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অত্যাধুনিক অস্ত্রই কি যুদ্ধের চূড়ান্ত শক্তি?
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক ছিল উন্নত যুদ্ধবিমান, বিমানবাহী রণতরি, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিংবা পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব আর দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়।

আধুনিক যুদ্ধের একটি বড় বাস্তবতা হলো, উন্নত অস্ত্র তৈরি করা যতটা কঠিন, যুদ্ধের মধ্যে সেগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা তার চেয়েও জটিল হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরোধক অস্ত্র, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে গেলে সেগুলো পুনরায় উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা যুদ্ধের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পশ্চিম এশিয়ার ভূগোলও এই চ্যালেঞ্জকে বাড়িয়ে দেয়। বিশাল সমুদ্র এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য নির্মিত নৌবহর পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ জলপথ ও অগভীর উপকূলীয় অঞ্চলে একই ধরনের সুবিধা নাও পেতে পারে। ফলে সামরিক সক্ষমতা শুধু অস্ত্রের মান দিয়ে বিচার করলে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত বাস্তবতা বোঝা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরবরাহব্যবস্থায় বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গ্যালিয়াম ও জার্মেনিয়ামের মতো উপাদান সামরিক ইলেকট্রনিকস এবং উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এসব উপাদানের সরবরাহে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রপ্তানি সীমাবদ্ধতা কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উৎপাদনেও চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ, যুদ্ধক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রাখতে শুধু উন্নত প্রযুক্তি নয়, প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, কার্যকর সরবরাহব্যবস্থা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যয় বহনের সক্ষমতা।
কম খরচের অস্ত্রে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আলোচনায় যুদ্ধের ব্যয়ের অসমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি বিমানবাহী রণতরি ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মোকাবিলায় তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষকে প্রতিটি হামলা ঠেকাতে ব্যয়বহুল প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে।
মূল নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি মার্কিন প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ২০ লাখ ডলার হতে পারে, যেখানে একটি ইরানি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ডলার। এই ব্যবধান যুদ্ধের অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দেয়। প্রতিপক্ষকে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে তার সামরিক প্রস্তুতি ও মজুতের ওপর চাপ বাড়ে।
এ ধরনের সংঘাতের কৌশলগত গুরুত্ব এখানেই। কম খরচে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা সম্পদ নিঃশেষ করার চেষ্টা করা যায়। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে অস্ত্রের নির্ভুলতা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা, উৎপাদনের গতি এবং যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর মজুত একই গতিতে পূরণ করা সম্ভব না হওয়া। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এই ব্যবধান প্রতিপক্ষের জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ডলারের আধিপত্যেও বাড়ছে চাপ
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেনি। বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাবও দেশটির ক্ষমতার বড় উৎস।
ডলারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর প্রভাব কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সম্পদ জব্দ, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে সামরিক সংঘাত ছাড়াও আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু এই ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কোনো দেশ যদি মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার প্রবণতা বাড়তে পারে।
ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প লেনদেনব্যবস্থা ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোও ডলারের বাইরে লেনদেনের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং বহুপক্ষীয় ডিজিটাল মুদ্রা উদ্যোগে অংশগ্রহণ এই বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টার অংশ।
এসব উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে ডলারের আন্তর্জাতিক প্রাধান্য অবিলম্বে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং এগুলো দেখায়, আর্থিক ব্যবস্থায় একক নির্ভরতা কমানোর আগ্রহ বাড়ছে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে বিস্তৃত হলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ওয়াশিংটনের প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপ। দীর্ঘদিনের বিদেশি সামরিক অভিযান, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অন্যান্য সরকারি ব্যয়ের ফলে দেশটির বাজেট ঘাটতি ও জাতীয় ঋণ বেড়েছে। মূল নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতির আর্থিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
নৈতিক নেতৃত্বের সংকট
সামরিক ও আর্থিক শক্তির বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি। বিভিন্ন সময়ে মার্কিন প্রশাসন সামরিক হস্তক্ষেপ ও সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে নৈতিক বা নিরাপত্তাগত প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
১৯৫৩ সালে ইরানে অভ্যুত্থান, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান, ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণ এবং ২০১১ সালে লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ—এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্য ও পরিণতি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক তৈরি করেছে। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ঘোষিত নীতি এবং বাস্তব ভূরাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে প্রায়ই অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।
গাজায় যুদ্ধ এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান গ্রহণ করলে সেই নীতির সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যেসব রাষ্ট্র ও জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ ও নিয়মভিত্তিক বলে দেখতে চায়, তারাও প্রশ্ন তুলতে পারে—এই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য কি না।

ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এই সংকট আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করতে শুধু শক্তি প্রদর্শন যথেষ্ট নয়; পদক্ষেপটির বৈধতা ও নৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল হলে মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান, নাকি ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস?
এসব পরিবর্তন থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শক্তি দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশটির সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো বিস্তৃত। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি, মিত্রজোট এবং আর্থিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ক্ষমতার প্রকৃতি বদলাচ্ছে। একসময় সামরিক প্রযুক্তি, ডলারের আধিপত্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে একত্র করে যে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল, এখন সেই কাঠামোর প্রতিটি অংশকে আলাদাভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ব্যয়, অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের সীমাবদ্ধতা, বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার বিকাশ এবং নৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখার কাজ আগের চেয়ে জটিল হতে পারে।
বৃহত্তর পরিসরে এটি প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে পশ্চিমা শক্তির প্রাধান্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করে। ইতিহাসে ক্ষমতার কেন্দ্র স্থায়ীভাবে এক জায়গায় থাকে না। অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শক্তির উত্থান ঘটে, পুরোনো শক্তির অবস্থানও পুনর্নির্ধারিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তাই চ্যালেঞ্জ শুধু প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলা করা নয়। একই সঙ্গে নিজের শিল্পভিত্তি, আর্থিক স্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখাও জরুরি। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এই শক্তিগুলোর সম্মিলিত কার্যকারিতা দিয়ে—শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কার অস্ত্র বেশি উন্নত, তা দিয়ে নয়।












