সাংবাদিকের কাজ শুধু কোনো ঘটনার খবর সংগ্রহ করা নয়; ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতার প্রয়োগ, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নও জনসমক্ষে তুলে ধরা। বিশেষ করে যখন রাস্তায় বিক্ষোভ চলে, পুলিশ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন সাংবাদিকতার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিককেই যদি আটক, শারীরিক নিগ্রহ, ভয়ভীতি কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়, তখন সংকটটি আর কেবল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জনপরিসরে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালে নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এই প্রশ্নগুলোকে সামনে এনেছে। ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণ জরুরি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব এতটাই যে, এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, নারীর মর্যাদা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কীভাবে রক্ষা করা হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট জবাব প্রয়োজন।
সংবাদ সংগ্রহ কি এখন ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরোধ?
৩ অক্টোবর নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিক এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা পাল্টা দাবি করেন, ওই সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক গালি ব্যবহার করেছেন। এ অভিযোগে তিনি একটি এফআইআর দায়ের করেন। ঘটনার দুই দিন পর ওই কর্মকর্তার পদোন্নতির খবর সামনে আসে। পুলিশ জানায়, অভিযোগ ওঠার আগেই পদোন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছিল; পরে বিতর্কের মধ্যে সেটি স্থগিত রাখা হয়।

এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো পক্ষকে দোষী ঘোষণা করা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগকারী সাংবাদিকের নিরাপত্তা এবং অভিযোগ জানানোর অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতাবান কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই অভিযোগকারীকে পাল্টা মামলার মুখে পড়তে হবে, কিংবা তাঁর পেশাগত পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে—এমন পরিবেশ ন্যায়বিচারের পথ সংকুচিত করে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নারী সাংবাদিকদের সংগঠন নেটওয়ার্ক অব উইমেন ইন মিডিয়া ইন ইন্ডিয়া (এনডব্লিউএমআই) সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সংগঠনটি জানায়, দিল্লিতে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং আদালতে অভিযোগ জানাতে ইচ্ছুক সাংবাদিকদের পরিচয় উপস্থাপন করেন এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত নারী বিচারকের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
আদালত এ ধরনের অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠনে সম্মত হয়। একই সঙ্গে এক সাংবাদিকের আবেদনের শুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তাৎপর্য এখানেই যে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি অভিযোগকারীর সুরক্ষা ও স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে সংবাদমাধ্যমকে আটকে রাখা?
১০ অক্টোবর দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে প্রায় ৪১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকও ছিলেন। সাংবাদিকদের আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানায়।
‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর সাংবাদিক অনুষ্কা ভরদ্বাজের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে তিনি নিজের সাংবাদিক পরিচয় জানানোর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে একই পুলিশ কর্মকর্তা ফিরে এসে সাংবাদিক পরিচয় বারবার দেওয়ায় তাঁকে কটাক্ষ করেন। এরপর তিনি আটক হওয়ার সময় প্রতিরোধ করলে ওই কর্মকর্তা তাঁর ব্যাগ ও পোশাক ধরে টানেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাংবাদিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের তথ্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, ওই সপ্তাহান্তে অন্তত ৩০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল; তাঁদের কয়েকজনের কাছে সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্রও ছিল। ফ্রি স্পিচ কালেক্টিভের গীতা সেশুর হিসাব অনুযায়ী, আটক সাংবাদিকের সংখ্যা ৪৩ পর্যন্ত হতে পারে। সংগঠনটি আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে পৃথক আবেদনও করে।
১১ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে বেআইনি আটক বন্ধ করতে এবং মানুষ ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়। আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার কথা উল্লেখ করে আদালত এই নির্দেশ দিলেও নির্দেশটির তাৎপর্য ছিল স্পষ্ট: জনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের নামে আইনবহির্ভূত আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে। কোনো বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে কি না, আটক আইনসম্মত ছিল কি না, আদালতের নির্দেশ মানা হয়েছে কি না—এসব তথ্য জনসমক্ষে আসবে কীভাবে, যদি ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদেরই বাধা দেওয়া হয়? সাংবাদিকদের কাজ শুধু কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা নয়। তাঁদের দায়িত্ব হলো, রাষ্ট্র যা বলছে এবং বাস্তবে যা ঘটছে, তার মধ্যে কোনো ব্যবধান আছে কি না, তা যাচাই করা।
নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও গভীর
বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সব সাংবাদিকই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তবে নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি যৌন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক অপমান এবং মর্যাদাহানির আশঙ্কাও যুক্ত হয়। এনডব্লিউএমআইয়ের আবেদনে তাই শুধু নিরাপত্তা নয়, জনপরিসরে নারী সাংবাদিকদের সমানভাবে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির বক্তব্য, নারী সাংবাদিকদের যেন ভয়ভীতি, শারীরিক বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে আটকের আশঙ্কা ছাড়াই জনপরিসরে উপস্থিত থেকে প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকে। এই দাবি কোনো বিশেষ সুবিধা চাওয়া নয়। বরং অন্য সাংবাদিকদের সমান পেশাগত অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান।
কোনো নারীকে প্রকাশ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া, তাঁর পোশাক ধরে টানাটানি করা কিংবা তাঁকে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি শুধু বলপ্রয়োগের মাত্রা দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। এমন আচরণ তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও পেশাগত পরিচয়কে আঘাত করতে পারে। ঘটনাটি অন্য নারী সাংবাদিকদের কাছেও একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়—সংবেদনশীল কোনো বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গেলে তাঁদের কী ধরনের ঝুঁকি নিতে হতে পারে।
এই ভয়ই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো সাংবাদিককে আটক করার পর যদি অন্য সাংবাদিকেরা একই ঘটনা সংবাদ হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তাহলে তাঁরা হয়তো ঘটনাস্থলে যাওয়া, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেওয়া কিংবা পুলিশের ভূমিকা নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসবেন। এতে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা বাস্তবে সংকুচিত হয়ে যায়।

আটককেন্দ্রেও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
দিল্লির ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ শুধু নারী সাংবাদিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারী বিক্ষোভকারী ও যৌন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ ও অভিযোগ সামনে এসেছে। ১৬ অক্টোবর আইনজীবী রাঘবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুই ট্রান্স নারীকে দিল্লি পুলিশ আটক করে কনট প্লেস থানায় রেখেছিল। অন্য নারী আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ওই দুজনকে রাতভর পুরুষ আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রতিবেদন লেখার সময় তাঁদের মুক্তির খবর পাওয়া যায়নি।
অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে তা আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং তাঁদের পরিচয়ের প্রতি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। কাউকে আটক করা হলে তাঁর লিঙ্গপরিচয়, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষার বিষয়গুলো উপেক্ষা করা যায় না। আটককেন্দ্রের ভেতরে কী ঘটছে, তা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকে বলেই সেখানে স্বাধীন নজরদারি এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা আরও জরুরি।
নারী সংগঠনগুলোর একটি যৌথ বিবৃতিতেও আটক রাখার বাস ও কেন্দ্রে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো, আটক ব্যক্তিরা যেন আইনজীবীর সহায়তা পান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।
ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠ থামানো যায় না
ভারতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের আন্দোলন থেকে শাহিনবাগের প্রতিবাদ—বিভিন্ন সময়ে নারীরা জনপরিসরে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন এবং রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করেছেন। বর্তমান প্রজন্মের তরুণীরাও শিক্ষা, অধিকার ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের উপস্থিতি দেখায়, নারীরা আর কেবল অন্যের সিদ্ধান্তের বিষয় হয়ে থাকতে চান না; তাঁরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত ও পরিবর্তনের আলোচনায় অংশ নিতে চান।
এই অংশগ্রহণে ভয় দেখিয়ে বা শাস্তির আশঙ্কা তৈরি করে নিরুৎসাহিত করা হলে তা শুধু কয়েকজন প্রতিবাদকারী কিংবা সাংবাদিকের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এতে জনজীবনে নারীর উপস্থিতি ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিসরও সংকুচিত হবে। রাষ্ট্রের শক্তি দিয়ে কোনো সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন তোলার অধিকারকে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা যায় না।

তবে প্রতিবাদের অধিকার মানে আইন থেকে অব্যাহতি নয়। সাংবাদিক কিংবা বিক্ষোভকারী—কেউই আইনসম্মত তদন্তের ঊর্ধ্বে নন। কিন্তু আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াও হতে হবে স্বচ্ছ, প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক। অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে; অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পরিচয়, পেশাগত দায়িত্ব এবং নিরাপত্তার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
জবাবদিহিই আস্থা ফিরিয়ে আনার পথ
রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করে না; রাষ্ট্র কীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠলে দ্রুত, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের আটক বা তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ থাকলে ঘটনাস্থলের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং আটক-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে। নারী সাংবাদিকদের অভিযোগের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং প্রতিশোধের আশঙ্কা থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত করা জরুরি।
এখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু কেবল নির্দেশ বা কমিটি গঠনই যথেষ্ট নয়। তদন্তের ফল কী হলো, দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী পরিবর্তন আনা হলো—এসব তথ্যও জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হওয়ার জন্য নয়; রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নাগরিকদের জানার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। সেই দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ। সংবাদ সংগ্রহ যদি শারীরিক নিগ্রহ, যৌন হয়রানি কিংবা নির্বিচারে আটকের ঝুঁকিতে পরিণত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু সাংবাদিকেরা নন—ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজের জানার অধিকার।
সাংবাদিকেরা সত্য তুলে ধরার কাজকে প্রতিরোধে পরিণত করেন না; বরং সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার জন্য মানুষকে ভয় পেতে হয়। এই ভয় দূর করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো স্বাধীন সাংবাদিকতা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
নমিতা ভান্ডারের আরও লেখা
শিক্ষা, স্বাধীনতা ও নারীর প্রতিরোধ: নতুন প্রজন্মের আন্দোলনের কেন্দ্রে কেন তরুণীরা
ভারতের নারী কৃষকদের স্বীকৃতি: আইনের পরিবর্তন কি বদলাবে বাস্তবতা?
‘না’ বলার অধিকারকে ভয় পেলে সমাজও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে
গৃহকর্মীর জীবন কি এতটাই সস্তা?











