চীনের সামরিক উত্থানকে ব্যাখ্যা করতে গেলে সাধারণত বিমানবাহী রণতরি, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা বাজেটের কথা সামনে আসে। কিন্তু দেশটির সামরিক সক্ষমতার গভীরতর ভিত্তি খুঁজতে হলে নজর দিতে হবে আরও পুরোনো একটি ধারণার দিকে, যা চীনের সামরিক চিন্তা, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করে আসছে। এই ধারণার নাম ‘সক্রিয় প্রতিরক্ষা’। এর মূল কথা হলো, কৌশলগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকেও যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্যোগ নিজের হাতে নেওয়া, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত সময়ে সীমিত পরিসরে নির্ণায়ক শক্তি প্রয়োগ করা।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ যখন প্রতিষ্ঠার শতবর্ষের দিকে এগোচ্ছে, তখন এই সামরিক দর্শনের আধুনিক রূপ কতটা কার্যকর হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হাইপারসনিক অস্ত্র, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত নজরদারিব্যবস্থার যুগে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব কেবল অস্ত্রের সংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। বাহিনী কীভাবে তথ্য ব্যবহার করে, প্রতিপক্ষের গতিবিধি বোঝে, নিজের শক্তি সংরক্ষণ করে এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অনুযায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করে, সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ অভিযাত্রা থেকে সামরিক দর্শনের উত্থান
চীনের সক্রিয় প্রতিরক্ষা কৌশলের ঐতিহাসিক ভিত্তি বুঝতে হলে ১৯৩৪-৩৫ সালের লং মার্চের দিকে ফিরে তাকাতে হয়। চীনা কমিউনিস্ট বাহিনী তখন জাতীয়তাবাদী বাহিনীর সামরিক চাপে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। ঘেরাও এড়িয়ে দীর্ঘ ও কঠিন পশ্চাদপসরণের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে। ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে এই অভিযাত্রার শেষে বাহিনীর টিকে থাকা সদস্যসংখ্যা প্রায় আট হাজারে নেমে এসেছিল বলে নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক দিক থেকে এটি ছিল বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা। কিন্তু রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে এর পরিণতি ছিল সুদূরপ্রসারী। মাও সেতুংয়ের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এমন এক যুদ্ধদর্শনের বিকাশ ঘটে, যেখানে প্রতিপক্ষের সামগ্রিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দেওয়ার বদলে তার দুর্বলতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

লং মার্চের তাৎপর্য কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি দেখিয়েছিল, সামরিক বাহিনী দুর্বল অবস্থায় থাকলেও সংগঠন, নেতৃত্ব, চলাচলের কৌশল এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সমন্বিত করতে পারলে ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। পরবর্তী সময়ে চীনা কমিউনিস্ট বাহিনীর বিকাশে এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চীনের সামরিক ইতিহাসকে পশ্চিমা বিশ্লেষণে কখনো কখনো বিপুল জনবল ও আত্মত্যাগের ওপর নির্ভরশীল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। চীনা বাহিনীর সাফল্য ব্যাখ্যা করতে শুধু সংখ্যাগত শক্তি যথেষ্ট নয়। কোরীয় যুদ্ধেও চীনা বাহিনী উন্নত অস্ত্র ও সরবরাহব্যবস্থায় এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের পেছনে ছিল গোপন চলাচল, শত্রুপক্ষের অবস্থানের ভেতরে অনুপ্রবেশ এবং নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত বিপুল শক্তি কেন্দ্রীভূত করার ক্ষমতা।
গেরিলা যুদ্ধের সীমা ছাড়িয়ে
সক্রিয় প্রতিরক্ষাকে শুধু গেরিলা যুদ্ধের আরেকটি নাম হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য বোঝা যায় না। গেরিলা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হলো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে বাহিনীকে ছড়িয়ে রাখা, নিরাপদ ঘাঁটি গড়ে তোলা এবং ছোট ছোট আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখা। দুর্বল বাহিনীর টিকে থাকার জন্য এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।
মাও সেতুং নিজেও গেরিলা যুদ্ধের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তবে তাঁর সামরিক চিন্তায় গেরিলা অভিযানই চূড়ান্ত বিজয়ের একমাত্র পথ ছিল না। ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত জাপানের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের কৌশলবিষয়ক তাঁর রচনায় এই ধারণা প্রতিফলিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করতে হলে এমন একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী প্রয়োজন, যা বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করতে এবং প্রতিপক্ষের প্রধান সামরিক শক্তির সঙ্গে নির্ণায়ক লড়াইয়ে অংশ নিতে সক্ষম।
এখানেই সক্রিয় প্রতিরক্ষার কার্যকরী দিকটি সামনে আসে। এই কৌশলে বাহিনী সব সময় একই জায়গায় অবস্থান করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে না। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন করে, প্রতিপক্ষের বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে এবং সুযোগ তৈরি হলে নির্দিষ্ট অংশের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে বেশি শক্তি প্রয়োগ করে। লক্ষ্য হলো, প্রতিপক্ষের পুরো বাহিনীর সঙ্গে একসঙ্গে লড়াই না করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিজের বাহিনী সাময়িকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে।
এই পদ্ধতিতে গতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। কখন এগোতে হবে, কখন সংঘর্ষ এড়িয়ে যেতে হবে এবং কখন আক্রমণ করে আবার অবস্থান বদলাতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তবে এ ধরনের কৌশল সফল করতে হলে সঠিক গোয়েন্দা তথ্য, কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাহিনীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।
প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান, আক্রমণাত্মক পরিচালনা
সক্রিয় প্রতিরক্ষার কেন্দ্রীয় ধারণা হলো রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রেখেও যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। এর অর্থ এই নয় যে বাহিনী সব সময় আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে। বরং সামরিক উদ্যোগ নেওয়ার সময়, স্থান ও পদ্ধতি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ধরে রাখাই এর লক্ষ্য।
এই দর্শনে ভূখণ্ড দখল করাই সব সময় প্রধান উদ্দেশ্য নয়। কোনো অঞ্চল দখল করে রাখা যদি সামগ্রিক রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা না করে, বরং জনবল ও সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, তাহলে সেই দখল ধরে রাখার কৌশলগত মূল্য সীমিত হতে পারে। বিপরীতে, প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে তার পরিকল্পনা ব্যাহত করা এবং নিজের বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা রক্ষা করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

এখানে সময় ও স্থানের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষকে এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে আসা, যেখানে তার শক্তি পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না, আর নিজের বাহিনীকে সুবিধাজনক অবস্থানে কেন্দ্রীভূত করা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই সক্রিয় প্রতিরক্ষার কার্যকরী যুক্তি।
চীনা সামরিক চিন্তায় যুদ্ধকে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অধীন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামরিক অভিযানকে তাই স্বতন্ত্র লক্ষ্য হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের সামগ্রিক উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের পরও যদি সেই সাফল্য রাজনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় হয় কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা ক্ষয় করে, তাহলে অতিরিক্ত অগ্রসর হওয়ার যৌক্তিকতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কিংবা আফগানিস্তানে সোভিয়েত সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে ব্যাখ্যা করা হয়। চীনের ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে সংঘর্ষের ক্ষেত্রেও নিবন্ধটি যুক্তি দেয়, বেইজিং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের পর সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দখল করা ভূখণ্ড ধরে রাখার পরিবর্তে সামরিক শক্তি সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার এই প্রবণতা সক্রিয় প্রতিরক্ষার রাজনৈতিক যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দাবার বদলে গো খেলার মতো চিন্তা
সক্রিয় প্রতিরক্ষার ব্যাখ্যায় চীনের ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত বোর্ড গেম ‘গো’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। দাবায় প্রতিপক্ষের নির্দিষ্ট ঘুঁটি দখল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও গো খেলায় বোর্ডের বিভিন্ন অংশে অবস্থান, জায়গা নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক কৌশলেও এই পার্থক্য তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো একটি শহর, ঘাঁটি বা ভূখণ্ড দখল করা দৃশ্যমান সাফল্য হতে পারে, কিন্তু তা সব সময় সামগ্রিক যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করে না। প্রতিপক্ষের সরবরাহব্যবস্থা, যোগাযোগ, চলাচলের স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করা অনেক সময় অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির আধুনিক রূপ হিসেবে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা চীনের ‘অ্যান্টি-অ্যাকসেস/এরিয়া ডিনায়াল’ বা প্রতিপক্ষের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করা এবং নির্দিষ্ট এলাকায় তার সামরিক কার্যক্রম সীমিত রাখার কৌশলকে চিহ্নিত করেন। এর উদ্দেশ্য হলো চীনের উপকূল ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপকে কঠিন করে তোলা। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারিব্যবস্থা, আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক সক্ষমতা এবং সমন্বিত সামরিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের চলাচল ও অভিযান পরিচালনার স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়।
এ ধরনের প্রতিরোধব্যবস্থা চীনকে নিজের উপকূল থেকে দূরেও কৌশলগত সুবিধা তৈরির সুযোগ দিতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রতিপক্ষের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং বাস্তব সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যবস্থার সমন্বয় কতটা সফল হয়, তার ওপর।

আধুনিকীকরণের আসল পরীক্ষা
চীনের সামরিক আধুনিকীকরণ নিয়ে আলোচনা প্রায়ই নতুন যুদ্ধবিমান, বিমানবাহী রণতরি, স্টেলথ প্রযুক্তি কিংবা উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ঘিরে আবর্তিত হয়। এসব সক্ষমতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রের সংগ্রহ নিজে থেকেই কার্যকর সামরিক কৌশল নিশ্চিত করে না। প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব, গোয়েন্দা তথ্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে উন্নত সরঞ্জামের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া কঠিন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াতে পারে। হাইপারসনিক অস্ত্র বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে উন্নত সেন্সর ও নজরদারিব্যবস্থা বাহিনীর গোপন চলাচল কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থাৎ প্রযুক্তি সক্রিয় প্রতিরক্ষার কিছু পুরোনো নীতিকে আরও কার্যকর করতে পারে, আবার কিছু প্রচলিত কৌশলকে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজনও তৈরি করতে পারে।
এই পরিবর্তনের মধ্যে চীনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ঐতিহাসিক সামরিক দর্শনকে আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। লং মার্চের সময়কার অভিজ্ঞতা সরাসরি আজকের উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের নকশা নির্ধারণ করতে পারে না। তবে প্রতিপক্ষের শক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা না করে নিজের সুবিধা তৈরি করা, রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তিক্ষয় এড়িয়ে চলার মতো নীতিগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
পিএলএর শতবর্ষের দিকে অগ্রযাত্রায় তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু চীন কত উন্নত অস্ত্র তৈরি করেছে, তা নয়। বরং নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত যুদ্ধক্ষেত্রে দেশটি তার সামরিক মতবাদকে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষা। সক্রিয় প্রতিরক্ষার ঐতিহাসিক শক্তি ছিল সীমিত সম্পদকে কৌশলগত সুবিধায় রূপান্তর করার ক্ষমতা। আধুনিক যুগে সেই সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে চীনকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক-সামরিক পরিকল্পনার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।













