ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা এখন সরকারের মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের ১৫টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ১৯ ধরনের মৌলিক সেবার জন্য ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফরম চালু করা হয়েছে। ফলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দাদের আর বারবার বোর্ড অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসেই আবেদন করা, ফি দেওয়া এবং সনদ পাওয়া যাবে। সোমবার এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর উদ্যোগটির নেতৃত্ব দিয়েছে।
এত দিন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবা পেতে পুরো প্রক্রিয়াই ছিল হাতে-কলমে। আবেদন জমা, কাগজপত্র দেওয়া, ফি পরিশোধ আর সনদ সংগ্রহ সবকিছুর জন্য অফিসে যেতে হতো। একটি সেবার জন্যও অনেক সময় কয়েকবার যাতায়াত করতে হতো। এতে খরচ বাড়ত, সময় নষ্ট হতো, ভোগান্তিও কম ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় ফিও অনলাইনে দেওয়া যাবে। সেবা শেষে যে সনদ মিলবে, তাতে থাকবে কিউআর কোড। এই কোড স্ক্যান করে সনদ আসল কি না যাচাই করা যাবে।
আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজের আবেদনের অগ্রগতিও দেখতে পারবেন। আবেদন কোন ধাপে আছে, তা জানতে আর অফিসে খোঁজ নিতে হবে না। সেবা নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলো একই প্ল্যাটফর্মে আবেদন গ্রহণ, যাচাই, তদন্ত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবে। এতে কাগজের কাজ কমবে। সেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কোন আবেদন কত দিন ধরে পড়ে আছে, তা নজরে রাখাও সহজ হবে। সেবাপ্রার্থী আর কর্মকর্তার মধ্যে সরাসরি লেনদেনের সুযোগও কমে আসবে। অনেক সরকারি দপ্তরে এই সরাসরি যোগাযোগ থেকেই হয়রানি আর বাড়তি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অনলাইনে প্রতিটি ধাপ নথিভুক্ত থাকায় দেরি হলে তার কারণও খুঁজে বের করা সহজ হবে। সরকারি সেবা সহজ করা ও ডিজিটাল রূপান্তরের যে লক্ষ্য সরকার ঘোষণা করেছে, এই উদ্যোগ তারই অংশ।
উদ্যোগটি এক দিনে আসেনি। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি সেবা মাইগভে আনা হয়। এরপর অন্য বোর্ডগুলোতেও কাজ ছড়ানো হয়। চলতি বছরের মার্চে তিনটি কর্মশালায় ৬৩ ধরনের নাগরিক সেবা পর্যালোচনা করা হয়। সেখান থেকে ডিজিটাল করার জন্য ১৯টি সেবা বেছে নেওয়া হয়। পরে সাতটি আঞ্চলিক কর্মশালায় অনলাইন ফরম, সেবার ফি ও কাজের ধাপগুলো যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বোর্ডগুলোর ১৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুরো কাজ তদারকি করেছে। সহায়তা দিয়েছে এটুআই কর্মসূচি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষও বসবাস করেন। অনেকে সেখানে ব্যবসা করেন, বাড়ি বানান, সন্তানদের পড়ান। তাঁদের দৈনন্দিন নানা কাগজপত্রের জন্য বোর্ড অফিসই ভরসা। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা অনলাইনে আসায় এই মানুষদের সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচবে। তবে সুফল পুরোপুরি পেতে হলে সাধারণ মানুষকে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে হবে। যাঁরা অনলাইনে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও জরুরি। প্রথম কয়েক মাসে আবেদন কত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, তাতেই বোঝা যাবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা কতটা বদলাল।












