স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সরকার উত্তরণ তিন বছর পেছানোর আবেদন করেছে। সোমবার ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে এক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট যৌথভাবে সেমিনারটি আয়োজন করে। মন্ত্রী বলেন, “আমি খুবই আশাবাদী, সামনের সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে আমরা জিনিসটার একটা নিষ্পত্তি দেখব।”
বর্তমান সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার কথা। হাতে আর এক মাসের মতো সময়। মন্ত্রী আশা করছেন, এই তারিখের আগেই এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। তিনি জানান, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও বাড়তি সময় দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।
উত্তরণ নিয়ে এত আলোচনা কেন, তা বোঝা দরকার। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এই সুবিধা বড় ভূমিকা রাখে। উত্তরণের পর ধাপে ধাপে এসব সুবিধা কমে আসবে। ওষুধশিল্পসহ কয়েকটি খাতে মেধাস্বত্বের ছাড়ও সীমিত হবে। তাই ব্যবসায়ীদের বড় অংশ প্রস্তুতির জন্য আরও সময় চাইছেন। জ্বালানি সংকট, উচ্চ উৎপাদন খরচ আর বিনিয়োগে ধীরগতির মধ্যে হঠাৎ সুবিধা হারানো তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত শুধু একটি তারিখ বদলের বিষয় নয়। এটি লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান আর দেশের রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এ কারণেই রপ্তানিকারকেরা বারবার বাড়তি সময়ের দাবি তুলে আসছেন।
উত্তরণের পরের বাজার সুবিধা ধরে রাখতে সরকার বিকল্প পথও খুঁজছে। মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ আলোচনার জন্য একজন প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার কারিগরি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, তবে তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। লক্ষ্য হলো উত্তরণের আগেই এফটিএ শেষ করা। একই সঙ্গে ইউরোপের জিএসপি প্লাস সুবিধার প্রস্তুতিও চলছে। মন্ত্রী বলেন, “তবে আশা করি জিএসপি প্লাসের অপশনটা আমাদের নিতে হবে না, তার আগেই আমরা এফটিএটা কমপ্লিট করব।” এ ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য জোট আরসেপে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। এখন প্রক্রিয়াগত কাজ এগোচ্ছে।
সরকার ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ৮ থেকে ১০টি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা এফটিএ করতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী। এসব চুক্তি হলে উত্তরণের পরও বড় বাজারগুলোতে কম শুল্কে পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকবে। তবে চুক্তি আলোচনা সময়সাপেক্ষ। তাই এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত সময়মতো এলে সেই প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে। আর সিদ্ধান্ত না এলে নির্ধারিত দিনেই উত্তরণ কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।












