চীনের সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্তে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে। সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, সুড়ঙ্গ তৈরি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে ভারত। এর লক্ষ্য শুধু সেনাবাহিনীর যাতায়াত ও রসদ সরবরাহ সহজ করা নয়, বরং সীমান্ত এলাকার জনবসতি ধরে রাখা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মোকাবিলা করা।
ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেমিথাং গ্রাম। এলাকাটি চীনের দাবিকৃত ভূখণ্ডের কাছাকাছি হলেও এখানকার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভারতীয় পরিচয় স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দারা হিন্দিতে কথা বলেন, বলিউডের গান শোনেন এবং ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ান। তবে মাঝেমধ্যে প্রযুক্তিগত একটি সমস্যা তাদের মনে করিয়ে দেয়, চীনের উপস্থিতি কতটা কাছাকাছি। একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক হারিয়ে গেলে তাঁর ফোন চীনের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয় এবং সময় বেইজিংয়ের সময় অনুযায়ী দেখাতে শুরু করে, যা ভারতীয় সময়ের চেয়ে আড়াই ঘণ্টা এগিয়ে।
এই ঘটনা অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের প্রতীক। একদিকে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নিজেদের প্রশাসনিক ও সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে চীনের গড়ে তোলা বিস্তৃত অবকাঠামোর সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে।
১৯৬২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি এখনো প্রাসঙ্গিক
দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রে থাকা অরুণাচল প্রদেশে বসবাস করেন ২০ লাখেরও কম মানুষ। চীন অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং এর নাম দিয়েছে ‘জাংনান’, যার অর্থ দক্ষিণ তিব্বত।
১৯৬২ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল এই অঞ্চল। সে সময় চীনা সেনারা পাহাড়ি পথ ধরে অগ্রসর হয়ে ভারতীয় বাহিনীকে পরাস্ত করে এবং অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশ দখল করে। পরে তারা সরে গেলেও সেই পরাজয়ের স্মৃতি দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে।
বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত। দুই দেশের সেনারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর অবস্থান করছে। বিতর্কিত এই সীমান্ত পাহাড়, উপত্যকা ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। ১৯৭৫ সালের পর অরুণাচল প্রদেশে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি। এমনকি ২০২০ সালে অরুণাচল থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে হাতাহাতির সংঘর্ষের সময়ও এই রাজ্যের সীমান্ত তুলনামূলক শান্ত ছিল।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অজয় শুক্লার মতে, এই শান্ত পরিস্থিতিকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। সীমান্তের দিকে যাওয়া ভারতীয় সড়কের পাশে একের পর এক সামরিক শিবির রয়েছে। ওই অঞ্চলে আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
২০২৬ সালের আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের তাকসিংয়ের কাছে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলে কয়েকটি স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন। তবে ভারতের সরকার এসব প্রতিবেদনকে গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করে। ঘটনাটি সীমান্ত নিয়ে স্থানীয় উদ্বেগের বিষয়টি আবার সামনে নিয়ে আসে।
সড়ক নির্মাণে ভারতের নীতির পরিবর্তন
দুই দেশের প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এখন অবকাঠামো। কয়েক দশক ধরে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা অরুণাচল প্রদেশে সড়ক নির্মাণে সতর্ক ছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, সীমান্ত পর্যন্ত উন্নত সড়ক তৈরি করলে ভবিষ্যতে চীনা সেনাবাহিনী ভারতের অভ্যন্তরে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই নীতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত সড়ক না থাকায় সীমান্তে মোতায়েন ভারতীয় সেনাদের কাছে রসদ পৌঁছানো কঠিন হতো। একই সঙ্গে দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দারাও যোগাযোগ, প্রশাসনিক পরিষেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকতেন।
অন্যদিকে চীন নিজেদের সীমান্তের দিকে বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি কয়েক শ সীমান্তবর্তী গ্রাম তৈরি করেছে, যেখানে বেসামরিক বসতির সঙ্গে সামরিক অবকাঠামোর সমন্বয় রয়েছে। এ ধরনের গ্রামকে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য বসতি বলা হয়, কারণ এগুলো সাধারণ মানুষের বসবাসের পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায়ও ভূমিকা রাখতে পারে।
ফলে ভারত এখন সীমান্তে যোগাযোগব্যবস্থাকে শুধু উন্নয়নের অংশ হিসেবে নয়, প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবেও দেখছে।
শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জাবিন জ্যাকবের মতে, গালওয়ানের সংঘর্ষের আগে ভারত ধরে নিয়েছিল, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হবে। কিন্তু ওই ঘটনা ভারতকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সীমান্তে প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করার গুরুত্ব তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শীতেও যোগাযোগ সচল রাখতে সেলা সুড়ঙ্গ
অরুণাচল প্রদেশে অবকাঠামো উন্নয়নের বড় অংশের দায়িত্বে রয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক নির্মাণ সংস্থা। সংস্থাটি এই অঞ্চলে কয়েক শ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করেছে।
এগুলোর মধ্যে সেলা সুড়ঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুড়ঙ্গটি তাওয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ সচল রাখতে সহায়তা করে। তাওয়াং অরুণাচল প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি। শীতকালে তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ি পথ ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়লেও সুড়ঙ্গটি যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
সীমান্তে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি দ্রুত রসদ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উন্নত সড়ক ও সুড়ঙ্গ স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করে এবং দুর্গম এলাকায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ায়।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা
অরুণাচল প্রদেশের নদীগুলোতে বিপুল জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একাধিক বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ভারত। এর মধ্যে আপার সিয়াং নদীতে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা এবং ভূমি ব্যবহারের মতো বিষয়ও জড়িত। ফলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আরেকটি উপায় হিসেবে ভারত এখন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে আরও সক্রিয় ও জনবহুল করে তোলার চেষ্টা করছে।
সীমান্তের গ্রামগুলোতে মানুষ ধরে রাখার উদ্যোগ
চীনের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণের চিত্র উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে ধরা পড়ার পর ভারতের কর্মকর্তাদের উদ্বেগ বেড়েছে। এর জবাবে ২০২৩ সালে ভারত সরকার ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম’ চালু করে।
এই কর্মসূচির আওতায় অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৭ বিলিয়ন রুপি বা ২ হাজার ৭০০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ডলারের হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ। এই বরাদ্দ রাজ্যটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশের সমান।
কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়া কমানো, নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করা এবং সরকারি প্রশাসনকে আরও কার্যকর করা। অর্থাৎ সীমান্তে শুধু সেনা ও সামরিক স্থাপনা নয়, স্থায়ী জনবসতি বজায় রাখাকেও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ জন্য বাড়িঘর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পর্যটনেও গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতীয় পর্যটকদের জন্য সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা পরিদর্শনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন সীমান্তচৌকি দেখতে পারেন এবং ১৯৬২ সালের যুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মিটার উঁচু বুম লা গিরিপথে সেনাসদস্যরা পর্যটকদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যান। সেখানে চীনা সীমান্তের দিকে মুখ করে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পর্যটনের পাশাপাশি সীমান্ত সম্পর্কে জাতীয় সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও উন্নয়নের ঘাটতি
অরুণাচল প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের দরিদ্র ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজ্যটির অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির অর্থনীতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ওই সময়ে ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও তাঁদের প্রত্যাশা আরও বেশি। তাঁরা চান, উন্নয়নের গতি বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর মানও উন্নত হোক। অনেকের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
এই সমস্যাগুলো ভারত ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতার একটি মৌলিক পার্থক্যও তুলে ধরে। চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পদ ভারতের তুলনায় বেশি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। সীমান্তবর্তী গ্রাম গড়ে তুলতে চীন জোরপূর্বক মানুষকে স্থানান্তর করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় মানুষের মতামত, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মতো বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। ফলে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
সীমান্ত প্রতিযোগিতায় উন্নয়নই এখন গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার
অরুণাচল প্রদেশে ভারতের বর্তমান উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কে দেশটির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে। একসময় যে সড়ক নির্মাণকে সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা হতো, এখন সেটিকেই সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো ও সীমান্তে উপস্থিতি ধরে রাখার অপরিহার্য উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সড়ক, সুড়ঙ্গ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, পর্যটন এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর উন্নয়ন—সবকিছু মিলিয়ে ভারত এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে চীনের অবকাঠামোগত অগ্রগতি, দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার পার্থক্য এবং ভারতের প্রশাসনিক ও স্থানীয় সীমাবদ্ধতার কারণে এই প্রতিযোগিতা সহজ হবে না।
অরুণাচল প্রদেশের ভবিষ্যৎ তাই শুধু সীমান্তের সামরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে না। যোগাযোগব্যবস্থা কতটা উন্নত হয়, সরকারি বিনিয়োগ কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগে এবং স্থানীয় মানুষ উন্নয়নের সুফল কতটা পান—এসব বিষয়ও নির্ধারণ করবে বিতর্কিত এই সীমান্ত অঞ্চলে ভারতের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয়।












