ফ্যাশন দুনিয়ায় দ্রুত বদল আনছে এআই। আগে পোশাকের বিজ্ঞাপনের ছবি তুলতে মডেল, আলোকচিত্রী, মেকআপ শিল্পী ও স্টুডিওর প্রয়োজন হতো। এখন এআই দিয়ে তৈরি মডেলের সাহায্যে অল্প সময়েই অসংখ্য ছবি তৈরি করা যাচ্ছে। এতে ছবি তৈরির খরচ ৯০ শতাংশেরও বেশি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই সুবিধার উল্টো পিঠে রয়েছে মানুষের কাজ হারানোর ভয়। বিশেষ করে অনলাইন পোশাকের বিজ্ঞাপনে কাজ করা মডেলদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
এআইয়ের সাহায্যে একটি মডেলের মুখ ও শরীর ব্যবহার করে নানা পোশাকের ছবি তৈরি করা যায়। বদলে দেওয়া যায় চেহারা, বয়স, ত্বকের রং কিংবা মুখের অভিব্যক্তি। এমনকি একজনের মুখ অন্যের শরীরে বসিয়েও তৈরি করা সম্ভব নতুন ছবি। ফলে প্রতিবার নতুন করে ছবি তোলার প্রয়োজন কমছে। একই সঙ্গে মডেলের ছবি ও চেহারা তাঁর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ফ্যাশনশিল্পে এআইয়ের প্রভাব বুঝতে ১৫ জন মডেলিং এজেন্সির পরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক ডজনের বেশি গোপনীয় ছবি তোলার চুক্তিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব চুক্তিতে ডিজেল, ক্যালভিন ক্লেইন ও লরিয়ালের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই ব্যবহারের বিভিন্ন শর্ত উঠে এসেছে।
কিছু চুক্তিতে মডেলের মুখ বদলে দেওয়া, তাঁর মুখ অন্যের শরীরে বসানো এবং অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁর ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এমনকি মডেলের শরীরের ছবি দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার শর্তও রয়েছে। চুক্তির ভাষা অস্পষ্ট হলে প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে এসব ছবি ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
মডেলের কাজ কমছে, বাড়ছে দুশ্চিন্তা
লন্ডনের মডেল অ্যাডট গাক মনে করেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে মডেলদের কাজ আরও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইটে পোশাকের ছবি তোলার কাজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
গাক হারপারস বাজারের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছেন। বালমেইন ও এইচঅ্যান্ডএমের মতো ব্র্যান্ডের প্রচারেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, মডেলরা এখনই নিজেদের অধিকার রক্ষায় কথা না বললে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরো শিল্পেই এআইয়ের আধিপত্য তৈরি হতে পারে।
আগে একটি পোশাকের ছবি তুলতে মডেল, আলোকচিত্রী, সাজসজ্জার কর্মী ও স্টুডিওর প্রয়োজন হতো। এখন এআই দিয়ে একই পোশাকের নানা ধরনের ছবি তৈরি করা যায়। এতে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফ্যাশনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্য কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
আরেকটি সমস্যা হলো, বাস্তব মডেল ও এআই দিয়ে তৈরি মডেলের মধ্যে পার্থক্য করা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। এতে বিজ্ঞাপনের ছবিতে আসলে কোনো মানুষ কাজ করেছেন, নাকি পুরো ছবিটিই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মুখ বদল ও ডিজিটাল প্রতিরূপ নিয়ে বিতর্ক
এআইয়ের সাহায্যে কোনো মডেলের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করা হলে সেই একই মুখ ও শরীর ব্যবহার করে বারবার নতুন ছবি বানানো যায়। এতে মডেলকে প্রতিবার শুটিংয়ে উপস্থিত থাকতে হয় না। ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এটি সময় ও অর্থ বাঁচানোর সহজ উপায়।
বার্সেলোনার মডেলিং এজেন্সি ইউনিকো মডেলসের মালিক প্যাট্রিক স্টাল জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান ছবি তোলার পর এআই দিয়ে মডেলের মুখ, শরীর, ত্বক, বয়স ও মুখের অভিব্যক্তি বদলানোর অনুমতি চায়। অন্যরা এমন ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করতে চায়, যা ভবিষ্যতে নতুন ছবি তোলা ছাড়াই ব্যবহার করা যাবে।
ইতালির ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডিজেলের একটি চুক্তির খসড়ায় মডেলদের মুখ ও শরীরের গড়ন বদলে দেওয়া, এক মডেলের মুখ অন্য মডেলের মুখ দিয়ে প্রতিস্থাপন এবং একজনের মুখ অন্য ব্যক্তির শরীরে বসানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।
ডিজেলের মূল প্রতিষ্ঠান ওটিবি জানিয়েছে, ওই চুক্তিটি একটি নির্দিষ্ট প্রচারাভিযানের জন্য তৈরি হয়েছিল। এটি তাদের সব চুক্তির সাধারণ নিয়ম নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে এআই ব্যবহার করে মডেলদের চেহারা বদলায় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ অ্যালিক্স আর্লের চালু করা ত্বকের যত্নের ব্র্যান্ড রিয়েল অ্যাকটিভসকে ঘিরেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ব্র্যান্ডটির প্রচারণার মূল কথা, নিজের স্বাভাবিক রূপই সুন্দর।
কিন্তু একটি চুক্তির খসড়ায় মডেলদের এআই দিয়ে তৈরি প্রতিরূপ ব্যবহারের অধিকার চাওয়া হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এক বছর পর্যন্ত এসব প্রতিরূপ ব্যবহার করতে পারত, এর জন্য মডেলকে বাড়তি পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রয়োজন হতো না।
রিয়েল অ্যাকটিভস জানিয়েছে, তারা বাস্তব মডেলদের ব্যবহার করে এবং কোনো মডেলের এআই প্রতিরূপ তৈরি করেনি। তাদের দাবি, চুক্তির ওই ভাষা তাদের অংশীদার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম জানানো হয়নি।
নিজের বিকল্প তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে মডেলের ছবি?
ফ্যাশন মডেলদের উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো, তাঁদের ছবি দিয়েই এমন এআই প্রযুক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যতে তাঁদের কাজের বিকল্প হয়ে উঠবে।
ক্যালভিন ক্লেইনের একটি চুক্তির খসড়ায় মডেলের এমন ছবি এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, যেখানে মুখ, শরীরের দাগ, উল্কি বা পরিচয় শনাক্ত করার মতো বৈশিষ্ট্য থাকবে না। এসব ছবি দিয়ে সাধারণ মডেলসুলভ বৈশিষ্ট্য শেখানোর কথা বলা হয়েছিল। এর জন্য বাড়তি পারিশ্রমিক দেওয়ার শর্তও ছিল না।
ক্যালভিন ক্লেইনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো তারাও এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তাঁদের দাবি, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন, শিল্পের নিয়ম এবং মডেলদের অধিকারের প্রতি সম্মান রাখা হয়।
তবে চুক্তির ভাষায় ‘অন্তর্ভুক্ত, তবে এতেই সীমাবদ্ধ নয়’—এ ধরনের শব্দ থাকলে অনুমতির পরিধি অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান ঠিক কতটা অধিকার পাবে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের আইনজীবী মেলানি হাওয়ার্ড বলেন, চুক্তির এমন অস্পষ্ট ভাষা বিপজ্জনক। কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়াই মডেলের ছবি ব্যবহার করলে সেই ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানানো কঠিন হতে পারে।
ফ্রান্সের প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান লরিয়ালের একটি চুক্তিতেও এআই ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রসাধনীর চেহারা, প্যাকেট ও রং পরিবর্তন এবং ছবি সম্পাদনার বিষয় ছিল।
তবে ওই চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে লরিয়াল জানিয়েছে, তারা ছবি সম্পাদনা ও শুটিংয়ের পরের কাজের জন্য প্রচলিত এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করে। তাদের দাবি, এসব কাজে মডেলের চেহারা পরিবর্তন করা হয় না।
ছবি তৈরির খরচ কমাতে স্টুডিও বন্ধ
এআইয়ের মাধ্যমে ছবি তৈরির খরচ কমানোর সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে অনলাইন পোশাকের বাজারে প্রতিদিন নতুন পণ্যের ছবি প্রকাশ করতে হয়। প্রতিটি পোশাকের জন্য আলাদা শুটিং আয়োজন করা ব্যয়বহুল। এআই সেই খরচ কমিয়ে দ্রুত ছবি তৈরির সুযোগ দিচ্ছে।
ইউরোপের বড় অনলাইন ফ্যাশন বিক্রেতা জালান্ডো বিপণনের কাজে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার বাড়িয়েছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি জার্মানির বার্লিনে তাদের দুটি ছবি তোলার স্টুডিও বন্ধ করে দেয়। জালান্ডোর অধিগ্রহণ করা ফাস্ট ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান অ্যাবাউট ইউও তাদের স্টুডিও বন্ধ করেছে।
এই পরিবর্তনের সময় জালান্ডো ৩৪০টির বেশি পদ কমিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাদ পড়া কর্মীদের মধ্যে কয়েকজনকে অন্য দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অ্যাবাউট ইউ এখন স্কেইল স্টুডিওস নামে একটি ব্যবসা চালু করেছে। এই প্রতিষ্ঠান এআই দিয়ে তৈরি মডেলের সাহায্যে অন্য ব্র্যান্ডের জন্য পোশাকের ছবি তৈরি করে। তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে ছবি তৈরির খরচ ৯০ শতাংশের বেশি কমানো সম্ভব।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্কেইলের ১৩০টি ব্র্যান্ড গ্রাহক রয়েছে। গত এক মাসে তারা ১ লাখ ৯০ হাজার পোশাকের ছবি তৈরি করেছে।
অ্যাবাউট ইউর বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলিয়ান জানসেন বলেন, এআই ব্যবহারে তাঁদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। তাঁর মতে, অনলাইন ব্যবসায় দ্রুত নতুন পণ্য তুলে ধরতে হয়। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে ছবি তোলা সময়সাপেক্ষ। এআই সেই বাধা কমিয়ে দিয়েছে এবং অনেক বেশি ছবি তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে।
স্পেনের ম্যাঙ্গোর মতো কিছু ফাস্ট ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে এআই মডেল ব্যবহার শুরু করেছে। তবে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এ নিয়ে সতর্কতা রয়েছে।
মঙ্কলার ২০২৩ সালে এআই দিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিল। চলতি বছর গুচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবি প্রকাশ করার পর ফ্যাশনজগতে বিতর্ক তৈরি হয়।
মঙ্কলার জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ওয়েবসাইট বা প্রচারাভিযানে এআই দিয়ে তৈরি মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে না। গুচির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করেনি।
মডেলের অধিকার রক্ষায় আইন কতটা প্রস্তুত?
এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও বিশ্বের অনেক দেশেই মডেলদের ছবি ও ডিজিটাল প্রতিরূপ ব্যবহারের অধিকার রক্ষায় পর্যাপ্ত আইন নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের জুন থেকে কার্যকর নিউইয়র্ক স্টেট ফ্যাশন ওয়ার্কার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, মডেলের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া ব্র্যান্ডগুলোর জন্য তাঁর ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি বা পরিবর্তন করা বেআইনি।
নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন মডেল অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারা জিফ বলেন, মডেলদের ছবি অপব্যবহারের ঘটনা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এআই সেই সমস্যাকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর সংগঠন আইনটি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিল।
জিফ নিজেও দীর্ঘদিন মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একই ধরনের আইন চালুর পক্ষে কাজ করছেন।
যুক্তরাজ্যের ফ্যাশন মডেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এআই ব্যবহারের জন্য একটি আচরণবিধি তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, মডেলের সম্মতি ছাড়া এআই ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তাঁর ডিজিটাল প্রতিরূপের মালিকানা মডেলের নিজের থাকা উচিত।
তবে সংগঠনটির প্রধান জন হর্নার মনে করেন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে বাধ্যতামূলক আইন না থাকলে মডেলদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। অসাধু এজেন্ট বা প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
বার্সেলোনার মডেলিং এজেন্সির পরিচালক প্যাট্রিক স্টালের মতে, অনেক তরুণ মডেল এখনো বুঝতে পারছেন না, এআই ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দেওয়া চুক্তির প্রভাব কত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ২০ বছর বয়সে কেউ নিজের ডিজিটাল প্রতিরূপ ব্যবহারের অধিকার ছেড়ে দিলে তার প্রভাব ১০ বছর পরও থাকতে পারে।
ফ্যাশনশিল্পে এআইয়ের ব্যবহার তাই শুধু ছবি তৈরির নতুন কৌশল নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের কাজ, আয়, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং নিজের চেহারার ওপর অধিকার। এআইয়ের কারণে ছবি তৈরি সহজ ও সস্তা হচ্ছে, কিন্তু সেই সুবিধা যেন মডেলদের জীবিকা কেড়ে না নেয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রযুক্তির ব্যবহার থামানো হয়তো সম্ভব নয়। তবে মডেলের স্পষ্ট সম্মতি, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং ডিজিটাল প্রতিরূপের ওপর তাঁর অধিকার নিশ্চিত করা গেলে এআইয়ের সুবিধা ও মানুষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব।












