ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। শনিবার (৩১ অক্টোবর) জোটটি জানিয়েছে, সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের আকাশে ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরেকটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটছে। এর প্রভাব পড়েছে ইয়েমেন সীমান্তেও। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তসীমান্ত হামলা ও পাল্টা হামলা বেড়েছে।
পূর্বাঞ্চল সৌদি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এখানেই রয়েছে দেশটির অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের মজুত। বিশ্বের বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর একটি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরও এ অঞ্চলে অবস্থিত।
গত কয়েক সপ্তাহে হুতিদের একাধিক হামলার লক্ষ্য হয়েছে এই অঞ্চল। চলতি অক্টোবরের শুরুর দিকে এক হামলায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফলে জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুধু পূর্বাঞ্চল নয়, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ওই ড্রোনটিও আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
মদিনা নিয়েও পাল্টাপাল্টি দাবি
এর আগে শুক্রবার সৌদি জোট দাবি করেছিল, মদিনা অঞ্চলের আকাশে হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হুতিরা শুক্রবারের ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববীর অবস্থান মদিনায়। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলিম সেখানে যান। এর আগে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর সৌদি অভিযোগও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, ইসলামের দুই পবিত্র শহরকে লক্ষ্য করে তারা কোনো হামলা চালায়নি।
গত ২৪ অক্টোবর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মক্কা ও মদিনার দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পরে প্রকাশিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ছবি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা সেটিকে ইরানে নকশা করা খাইবার শেখান ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে শনাক্ত করেন। তবে ছবিগুলোর তোলার তারিখ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। তবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন করে হামলা বাড়ায় সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ড্রোন হামলা, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এখন আঞ্চলিক উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।












