যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর পথ তৈরি করতে তেহরানে দীর্ঘ কূটনৈতিক বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শুক্রবার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এসব আলোচনার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি ঠেকানো।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কাতারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শনিবার দোহায় আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে কয়েক দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছেন। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার সরাসরি আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
আলোচনার মূল বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি হলেও এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
সমঝোতার পথে দুই বড় বাধা
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও আলোচনায় অগ্রগতির পথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাইছে, আলোচনা পুনরায় শুরুর আগেই ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু ছাড় দিতে হবে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থান তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ইরান আলোচনায় ফেরার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড়ের দাবি জানাচ্ছে। তেহরানের মতে, এসব বিষয়ে সমাধান ছাড়া আলোচনায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি কঠিন।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কয়েক দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়ে কাতার আলোচনার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য পথ তৈরির চেষ্টা করছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান—সবাই দুই পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।
এসব দেশের উদ্বেগের মূল কারণ, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
আলোচনায় ফেরার চেষ্টা, সংঘাতের শঙ্কা বহাল
কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরান ও দোহায় ধারাবাহিক আলোচনা আয়োজনের উদ্যোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, আঞ্চলিক দেশগুলো আপাতত সামরিক সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ অবরোধ এবং জব্দ করা অর্থ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের পার্থক্য এখনো বড় বাধা।
শনিবার দোহায় আলোচনার পর দুই পক্ষ কোনো সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছায় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনায় ফেরাতে তেহরানে ১২ ঘণ্টার বেশি বৈঠক করেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ অবরোধ ও জব্দ করা অর্থ নিয়ে মতবিরোধ এখনো বড় বাধা।












