বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছে দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (এফকেআই) এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইয়ংওন।
সোমবার (২ নভেম্বর) পশ্চিম সিউলের ইয়েওইদো এলাকায় এফকেআই টাওয়ারে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেন বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করবেন।
অনুষ্ঠানে ইয়ংওন হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী ও ভাইস চেয়ারম্যান সুং রে-উন বাংলাদেশকে দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইয়ংওনের মধ্যে বিশেষ বন্ধন তৈরি হয়েছে। এই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং টেকসই যৌথ প্রবৃদ্ধির সুযোগ সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা
নৈশভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিলও উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে ইয়ংওনের চেয়ারম্যান সুং কি-হাক, এফকেআইয়ের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান কিম চ্যাং-বম এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হোয়াং কি-ইয়োন অংশ নেন। এ ছাড়া ওসিআই হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান লি উ-হিউন, হানজিনের প্রেসিডেন্ট চো হিউন-মিন এবং এসকে গ্যাসের প্রধান নির্বাহী ইউন বিয়ং-সুক উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর জন্য উদীয়মান ব্যবসায়িক সুযোগ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক
সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী লি হিউং-ইল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পার্ক জং-সুংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি, এসকে হাইনিক্স, এলজি ইলেকট্রনিকস, হানওয়া ওশান এবং নাভারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধিদল এলজি এআই রিসার্চ, এআই চিপ নির্মাতা স্টার্টআপ ফুরিওসাএআই এবং বুসান বন্দর পরিদর্শন করবে। এসব বৈঠক ও পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রযুক্তি, শিল্প উৎপাদন, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে ইয়ংওনের দীর্ঘ বিনিয়োগ
ইয়ংওন আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম বড় আউটডোর পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্য নর্থ ফেস ব্র্যান্ডের ব্যবসাও পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশে ইয়ংওনের বিনিয়োগের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত পোশাক কারখানা চালু করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল এই উদ্যোগ।
বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিধি পোশাকশিল্পের বাইরে প্রযুক্তি, শিল্প উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতেও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিউলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এবারের সফরে এসব খাতে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার পথ কতটা উন্মুক্ত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।








